অনুশীলনের জন্য ল্যাপটপ চায় ফাহাদ

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

বাংলাদেশের দাবাড়ু নতুন খেতাব পাওয়া আন্তর্জাতিক মাস্টার ফাহাদ রহমান বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেও তার নিজের মুখটা দুর্ভাবনায় ভরা। একরাশ অন্ধকার নিয়ে এখন মেরুল বাড্ডার ভাড়া বাসায়। সেপ্টেম্বরে রাশিয়ায় বিশ্বকাপ দাবা। যেখানে পৃথিবীর সেরা দাবাড়ুরা অংশগ্রহণ করবেন। তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে লড়াই করবেন নবম শ্রেণির ছাত্র ফাহাদ রহমান। প্রথম ম্যাচ হারলেই বিদায়। এমন বিদায় নিতে চান না ফাহাদ। ভালোভাবে অনুশীলন করে লড়াই নামতে চান। কিন্তু সেই অবস্থা নেই ফাহাদের। কারণ ফাহাদ অন্যের কাছ থেকে বই পড়ে লড়াই করতে কতো দূরই বা যাবেন। বিশ্বকাপ দাবায় খেলতে হলে আধুনিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। ফাহাদের এই মুহূর্তে একটি ল্যাপটপ দরকার। ফাহাদ বললেন, ‘আসুস কোর আই সেভেন, এইট জেনারেশন ল্যাপটপ দরকার। এখন আধুনিক যুগে বই পড়ে আর যাই হোক পৃথিবীর বড় বড় দাবাড়ুর সঙ্গে লড়াই করা যায় না।’

ফাহাদের বাবা নজরুল ইসলাম বললেন, ‘বাসা ভাড়া মিটিয়ে চালডাল কেনার পর ল্যাপটপ কেনার ক্ষমতা কোথায়।’

ফাহাদ জানালেন দাবা ফেডারেশনে যেতে হয় বাসে চড়ে। সিএনজিতে চড়ে। দাবার প্রশিক্ষণের জন্য আধুনিক ল্যাপটপ কেনার মতো অবস্থা নেই।’ ফাহাদের পরিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতা চাইলেন।

রাজধানীর মেরুল বাড্ডার লিটল জুয়েলস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ছাত্র ফাহাদ অসাধারণ মেধাবী। এই শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণিতে এ প্লাস এবং অষ্টম শ্রেণিতে এ প্লাস পেয়েছিলেন। এবার নবম শ্রেণিতে। সপ্তাহে দুই দিন স্কুলে যান ফাহাদ। বাকিটা সময় দাবার অনুশীলন। আন্তর্জাতিক দাবায় লড়াই করে এপর্যন্ত ১০টি সোনার পদকসহ ২২টি পদক রয়েছে। তার বাবার দাবি ‘বাংলাদেশের কোনো ক্রীড়াবিদের এই সাফল্য নেই।’ তারপরও ফাহাদের বাবার মন খারাপ। মা হামিদা খাতুনেরও মন ভালো না। এক কন্যা, দুই পুত্র, তিন সন্তানের সবচেয়ে ছোট ফাহাদ দেশের দাবা অঙ্গন আলোকিত করে যাচ্ছে অথচ তাকে এগিয়ে নেয়ার সরকারি কোনো সহযোগিতা নেই। গত বছর এই ফাহাদ ভারতের গ্র্যান্ডমাস্টার ললিত বাবু, গ্র্যান্ডমাস্টার নিহাল সারিন এবং সুপার গ্র্যান্ডমাস্টার এসপি সেতুরামের সঙ্গে ড্র করে।

গত বছর জর্জিয়াতে ১৮৫ দেশের সাড়ে ৪ হাজার দাবাড়ু লড়াই করেছিলেন। সেখানে বাংলার দাবাড়ু ফাহাদ পঞ্চম স্থান পায়। আন্তর্জাতিক নর্ম অর্জন করেছিল। ফাহাদের বাবার দাবি, ‘ফাহাদকে আধুনিক সুযোগ সুবিধায় উন্নত প্রশিক্ষণ দিতে পারলে এই ছেলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবে। ১৬ বছরের এটা ছেলে বিশ্বকাপ দাবায় খেলার যোগ্যতা অর্জন করল অথচ একটা অভিনন্দনও দেয়নি আমার ছেলেকে।’

বাংলাদেশে এবারই প্রথম মাত্র ১৬ বছরের একজন খুদে দাবাড়ু বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। শুধুমাত্র দাবার পুঁথিবিদ্যার উপর ভর করে কতো দূরেই বা যাওয়া যায়। ফাহাদ বললেন, ‘রাশিয়াতে বিশ্বকাপ দাবা হবে। একদিকে আমার ল্যাপটপ দরকার, অন্যদিকে আমার স্পন্সর দরকার। আমি একা রাশিয়ায় যেতে পারব না। আমার স্পন্সর লাগবে।’

যার ঘরে সাফল্যে ভরপুর সেই ঘরে অন্ধকারও আছে। সেই অন্ধকার সরিয়ে দিতে ফাহাদের দাবিগুলো বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন ফাহাদের পরিবার।