গৃহযুদ্ধের উসকানি দিচ্ছে বিএনপি -------ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্র পাহারার নামে দেশে সংঘাত ও গৃহযুদ্ধের উসকানি দিচ্ছে বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু হোটেলে অ্যাসথেটিক ডারমাটোলজিস্টদের আন্তর্জাতিক সেমিনারে তিনি আরো বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির নেতারা বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তারা বলছেন, নির্বাচনের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে ৩০০ থেকে ৪০০ নেতা-কর্মী অবস্থান করবেন। আওয়ামী লীগ যদি একইভাবে দলীয় নেতা-কর্মীদের কেন্দ্রে অবস্থান নিতে বলে, তাহলে কি গৃহযুদ্ধ হবে না? তাহলে ভোট হবে না, গৃহযুদ্ধ হবে? ভোট হবে না,          ভায়োলেন্স হবে?

বিএনপির আন্দোলনের হুমকির জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ তো দূরের কথা, বাংলাদেশের কোথাও একটা রিপলও দেখলাম না। ফখরুল সাহেবরা স্বপ্ন দেখতেই পারেন। জনগণের ওপর যদি আস্থা থাকে তাহলে কিভাবে তারা অবিরাম অ্যাগ্রেসিভ মুডে কথা বলছে? তবে তাদের এ ধরনের হুমকি সহ্য করা যায় না। দেশের জনগণ যখন একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশার কথা বলছে, তখন বিএনপি নেতারা আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করে নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশকে নষ্ট করছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ঐক্যফ্রন্টের সবকিছু লন্ডন থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। জোটটির শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনসহ ঐক্যফ্রন্টের অন্য নেতাদের এক কানাকড়িও দাম নেই। বিএনপি তাদের ব্যবহার করছে। লন্ডন থেকে তারেক রহমান যে নির্দেশ দিচ্ছে, তার অঙ্গুলি হেলনে ঐক্যফ্রন্ট চলছে, এটা হলো বাস্তবতা।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশনের আচরণ এখনো আওয়ামী লীগের কাছে পক্ষপাতমূলক মনে হচ্ছে না। তারেক রহমানের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগ অভিযোগ করলেও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ কাভার না করায় এ বিষয়ে ভিন্ন পথে সমাধান খুঁজছে আওয়ামী লীগ। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেপ্তারের অভিযোগ অস্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, ‘মনোনয়ন প্রত্যাশীরা যদি পল্টনে- নৃত্য করতে করতে পুলিশের গাড়ির ওপর চড়াও হয়, পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে ফেলে, পুলিশের ওপর হামলা করে, তারা কি নিরপরাধ? তারা যদি প্রার্থীও হয়, তাহলে কি ক্ষমা করা যাবে?’

আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভেতরে কিছু কিছু জায়গায় সংঘাতের খবরকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা এখানে সেখানে হচ্ছে। সেটা যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই ঘটছে তা নয়। আর বিএনপি তো প্রতিদিনই মারামারি করে, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।’

‘বিএনপি থেকে অনেকেই আওয়ামী

লীগে যোগ দিতে আগ্রহী’

এদিকে বুধবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি থেকে অনেকেই আওয়ামী লীগে যোগ দিতে আগ্রহী। যদি নেত্রীর (শেখ হাসিনা) ক্লিয়ারেন্স পাই বা নেত্রী একটু সবুজ সংকেত দিলেই সারাদেশ থেকে বিএনপির বিপুল নেতাকর্মীর যে স্রোতধারা আওয়ামী লীগ অভিমুখে যাত্রা করবে, এই যাত্রা মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব বন্ধ করতে পারবে না।’

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী দিনে দল বদলের রাজনীতির কোনো চমক আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে নতুন কোনো বিষয় নয়। অলরেডি তো অনেকেই দলবদল করেছেন। আমরা কিন্তু এখনো আমাদের নেত্রীর ক্লিয়ারেন্স পাইনি। বিএনপি থেকে কত আসে দেখুন।