মার্কিন পিত্জা রেস্টুরেন্ট ডোমিনজ ঢাকায় চালু

গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনই ব্যবসায়িক সাফল্য

রেজাউল হক কৌশিক

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে মার্কিন চেইন ডোমিনজ পিত্জা। রাজধানীর ধানমন্ডির র্যাংগস ফরচুন স্কয়ারে প্রথম রেস্টুরেন্ট চালু করার মাধ্যমে বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করেছে ভারতের বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয় এ রেস্টুরেন্ট। সম্প্রতি উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ঢাকায় এসেছিলেন জুবিল্যান্ট ফুডওয়ার্কস লিমিটেডের (জেএফএল) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্রতীক পটা। দৈনিক ইত্তেফাকের কাছে তিনি ডোমিনজ পিত্জা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

জেএফএল সিইও বলেন, জেএফএল ও বাংলাদেশের গোল্ডেন হারভেস্ট গ্রুপের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করবে ডোমিনজ পিত্জা। বাংলাদেশ খুব সম্ভাবনাময় বাজার বলে মনে করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এদেশের মানুষ পিত্জা খুব পছন্দ করেন। বিশেষ করে মানসম্পন্ন পণ্যকে তারা স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপকভাবে গ্রহণ করে। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরা গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে পারবো। আমরা মনে করি, গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনই ব্যবসায়িক সাফল্য। বাংলাদেশে গোল্ডেন হারভেস্টের সঙ্গে কাজ করতে পেরে জেএফএল খুশি বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশে অনেক রেস্টুরেন্টে ভাল পিত্জা পাওয়া যায়। এদেশীয় উদ্যোক্তারা ওইসব রেস্টুরেন্টের মালিক। তবে কেন ডোমিনজ পিত্জা এদেশে মানুষ খাবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তরুণ ও যুব শ্রেণির মানুষ সব সময় নতুন অভিজ্ঞতা পেতে চায়। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বিশেষ করে ঢাকার মানুষ নতুন অভিজ্ঞতা পেতে চায়।

এ দেশে ফুড বিজনেসের সম্ভাবনা বিষয়ে জেএফএল সিইও বলেন, বাজার হিসাবে বাংলাদেশ খুবই সম্ভাবনাময়ী। আর এটা অনেকদিন ধরে বিকশিত হবে। বিশেষ করে ফুড সার্ভিস বিজনেস আরো বিকশিত হবে। এই বাজারে আমরা নতুন কিছু করতে চাই।

প্রতীক পটা বলেন, চারটা বিষয়ের সমন্বয় করে ডোমিনজ পিত্জা সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। সেগুলো হলো—প্রথমত, আন্তর্জাতিক ডোমিনজ ফ্লেভারের সঙ্গে দেশীয় ফ্লেভাবের সংমিশ্রণ ঘটানো। তবে এক্ষেত্রে মানের বিষয়ে কোনো ছাড় না দেওয়া। দ্বিতীয়ত, সহনশীল দাম। মাত্র ১৪৯ টাকায় আন্তর্জাতিক মানের পিত্জা। তৃতীয়ত, নতুন স্বাদের অভিজ্ঞতা দেওয়া এবং চতুর্থত, প্রযুক্তির ছোঁয়া।

জেএফএল সিইও বলেন, ঘরে বসে ডোমিনজ পিত্জার অর্ডার করার জন্য এন্ড্রয়েড ও আইফোনের অ্যাপস রয়েছে। এ অ্যাপসের মাধ্যমে অর্ডার করলেই মাত্র আধা ঘণ্টায়ই সেখানে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকা শহরে এতো যানজটের মধ্যে সম্ভব কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এটা সম্ভব। আর যাতে সেটা এখানে সম্ভব হয় সেজন্য কাজও চলছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় শুরু করার আগে থেকেই এখানে ডোমিনজ পিত্জা বিক্রি শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতীক পটা বলেন, আমরা এখানে আগে থেকেই আমাদের পিত্জা বিষয়ে গবেষণা শুরু করেছিলাম। তারই অংশ হিসাবে বিক্রি শুরু হয়েছে। আমরা সাধারণত, ১৫ থেকে ২০ মাস কাস্টমারের ফিডব্যাক নিয়ে থাকি। সরাসরি, অনলাইন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা এ ফিডব্যাক নিয়ে থাকি। বাংলাদেশে আমরা খুবই ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। আমাদের কাস্টমাররা খুবই খুশি।

প্রসঙ্গত, ডোমিনজ পিত্জা বিশ্বব্যাপী সুনামের সঙ্গে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। ডোমিনজ পিত্জা তার খাবারের মান ও ডেলিভারির মাধ্যমে কোটি গ্রাহকের হূদয়ে স্থান করে নিয়েছে। এখন বাংলাদেশেও ভাল একটি অবস্থানে যেতে চাচ্ছে বহুজাতিক এ কোম্পানি। ভারতের ২৭১টি শহরে প্রায় ১২০০টি আউটলেট পরিচালনা করছে জেএফএল এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া শ্রীলঙ্কা ও নেপালে ডোমিনজ পিত্জা ও অন্যান্য ব্র্যান্ডের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে ঢাকায় গ্রাহকেরা ডোমিনজ পিত্জার প্রতি আশানুরূপ আগ্রহ দেখিয়েছে। কার্যক্রম শুরুর প্রথম সপ্তাহেই ডোমিনজ পিত্জা বাংলাদেশে রেকর্ড সংখ্যক অর্ডার পেয়েছে। যা প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বের ৮৫টি দেশে সচল পিত্জা নেটওয়ার্কের ভেতর সর্বোচ্চ।