সংবিধানে মুক্তিযুদ্ধ চেতনা পরিপন্থি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থেকে গেলে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের জীবনদান বৃথা যাবে। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সংবিধানকে নানাভাবে কাটাছেঁড়া করার পর তাতে এখন ‘মুক্তিযুদ্ধ পরিপন্থি অনাকাঙ্খিত বিষয়বস্তু’ রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।
গতকাল রবিবার বিকালে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে স্বাধীনতা উত্সবের উদ্বোধন করতে এসে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘অশুভের সাথে আপোষবিহীন দ্বন্দ্ব চাই’ প্রতিপাদ্যে উদযাপিত হচ্ছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের স্বাধীনতা উত্সব। রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই উত্সবের উদ্বোধন করেন মুক্তিযোদ্ধা নাসিরউদ্দিন ইউসুফ। সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ঝুনা চৌধুরী, মান্নান হীরা, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ সামাদও বক্তব্য দেন।
নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, হেফাজতে ইসলাম, আওয়ামী ওলামা লীগের মতো ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো সরকারের ছায়াতলে এসে বাংলাদেশকে আবারো ‘অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে’ বলে হুঁশিয়ার করে দেন ।
পরে সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নেয় বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, নৃত্য সংগঠন স্পন্দন। অনুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশন করেন ফকির সিরাজ, নবনীতা জাইদ চৌধুরী অনন্যা, আরিফ রহমান। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে স্বরশ্রুতি। একক আবৃত্তি করেন রূপা চক্রবর্তী। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে কত্থক নৃত্য সমপ্রদায়। পথনাটক পরিবেশন করে আরণ্যক নাট্যদল। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ছাড়াও ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চেও ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজন। ২৫ ও ২৬ মার্চ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চে থাকবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রতিদিনের অনুষ্ঠান শুরু হবে বিকাল ৫টায়।
লাটাই-এর আয়োজনে ছড়াসাহিত্য পুরস্কার প্রদান
ছড়ার কাগজ ‘লাটাই’ এর আয়োজনে ছড়াসাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হয়ে গেল শনিবার। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২০১৭ ও ২০১৮ সালের পুরস্কার দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন ছড়াকার ফারুক হোসেন। আর ওই বছরের পুরস্কার পেয়েছেন ফারুক নওয়াজ, হাসান হাফিজ, স.ম. শামসুল আলম, আহমেদ সাব্বির, অদ্বৈত মারুত ও মঈন মুরসালিন। ২০১৮ সালে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে যেসব ছড়াকার পুরস্কার পেয়েছেন তারা হলেন আনজীর লিটন, রোমেন রায়হান, ওয়াসিফ-এ-খোদা, নীহার মোশারফ ও আহমাদ স্বাধীন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। শিশু সাহিত্যিক আলী ইমামের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন শিশু সাহিত্যিক আখতার হুসেন, আলম তালুকদার, আসলাম সানী ও আমীরুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মামুন সারওয়ার।