ভারত শাসিত কাশ্মিরে রবিবার একটি সংবাদপত্রের প্রকাশ বন্ধ করে দেওয়ায় মানবাধিকার সংগঠনের তোপের মুখে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রাদেশিক উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে তুলতে সংবাদপত্রটি ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে সরকারের এমন পদক্ষেপে সোমবার শ্রীনগরে বিক্ষোভ করেছে সাংবাদিকরা।
দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের অস্থিরতার পর প্রদেশের ইংরেজি সংবাদপত্র দি কাশ্মির রিডার’র প্রকাশনা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এটা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
সংবাদপত্রটির সম্পাদক বলেছেন, রবিবার সন্ধ্যায় পুলিশ আমাদের অফিসে এসে প্রকাশনা বন্ধের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশ নিয়ে আসে। ফলে সোমবার আমাদের সংবাদপত্র প্রকাশ বন্ধ থাকে। মীর হেলাল নামে একজন বার্তা সংস্থা এএফপি’কে জানান, আমাদেরকে আগে থেকে কোনো নোটিস বা আমাদের সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি সরকার। যদি সংবাদের আধেয় নিয়ে সমস্যা থেকে থাকে তাহলে তারা আমাদের কাছে থেকে ব্যাখ্যা চাইতে পারতেন।
এদিকে স্থানীয় সকল সংবাদপত্র প্রকাশনা ও অনলাইন গণমাধ্যমগুলো নিষিদ্ধ করার কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সরকারের এমন পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানো সরকারের দায়িত্ব। সরকারের সমালোচনা করার জন্য এটা বন্ধ হতে পারে না। এমন ঘটনা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার লঙ্ঘন অভিযোগ করে সোমবার শ্রীনগরে প্রতিবাদ জানায় সাংবাদিকরা।
গত চার বছর ধরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে এ সংবাদপত্র শ্রীনগর থেকে প্রকাশিত হচ্ছিল। নির্দেশে বলা হয়েছে, কাশ্মির রিডারের উপাদান ও বিষয়বস্তু সহিংসতা উস্কে দিতে ভূমিকা রেখেছে, যা জনশান্তি ও স্থিতাবস্থাকে ব্যাহত করছে। স্থানীয় আইনে উল্লেখ রয়েছে, কোনো সংবাদপত্রের বিষয়বস্তু যদি উত্তেজনাকে প্রশ্রয় দেয় তাহলে সেটি বন্ধ করে দেওয়ার এখতিয়ার সরকারের থাকবে।
গত জুলাই থেকে এখানে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে ৮০ জনের বেশি নিহত এবং হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। জনপ্রিয় জঙ্গি নেতা বুরহান ওয়ানিকে হত্যার ঘটনায় জনবিস্ফোরণ হয় কাশ্মিরে। -বিবিসি
ইত্তেফাক/এমএএস