বাংলাদেশে মেশিনারিজের কারখানা স্থাপনে আগ্রহী চীন

চীনের ইউনান প্রদেশের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে মেশিনারিজ খাতে বিনিয়োগ ও কারখানা স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বারের (ডিসিসিআই) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাত্কালে এ আগ্রহের কথা জানান, ঢাকা সফররত ডিপার্টমেন্ট অফ কমার্স অব ইউনান প্রভিন্স এর বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ইউয়ান লিন। সফররত ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব  দেন তিনি। এ সময় ডিসিসিআইয়ের সভাপতি ওসামা তাসীরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইউয়ান লিন জানান, ভৌগোলিক দিক থেকে বাংলাদেশ এবং ইউনান প্রদেশ বেশ কাছাকাছি অবস্থান করলেও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আশানুরূপভাবে বৃদ্ধি পায়নি। ২০১৮ সালে ইউনান প্রদেশের মোট আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার এবং প্রদেশটি শুধু মেশিনারিজ পণ্য রপ্তানি করেছে ৪ বিলিয়ন ডলারের। বাংলাদেশে মেশিনারিজ শিল্প স্থাপন ছাড়াও কফি, তামাক, রাবার, ফুল প্রভৃতি রপ্তানিতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রতিনিধিদল।

আলোচনার শুরুতে ডিসিসিআই সভাপতি ইউনান প্রদেশের মেশিনারিজ শিল্পের অগ্রগতির প্রশংসা করে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। ফুল চাষের বহুমুখীকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন ও ব্যবহারে ইউনানের এ খাতের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার আহ্বান জানান। এছাড়া ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স, কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য, পর্যটন, ফুল চাষাবাদ,ওষুধ, যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা এবং সমুদ্র অর্থনীতি খাতে যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, চীন ও আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরো বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ‘লুক ইস্ট’ নীতিমালা গ্রহণ করেছে।

প্রসঙ্গত, চীন এককভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য হয়েছে ১ হাজার ২৪০ কোটি ডলারের। এর মধ্যে প্রায় পুরোটাই বাংলাদেশের আমদানি। আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশ ১ হাজার ১৭০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ আমদানির বিপরীতে রপ্তানি করেছে মাত্র ৬৯ কোটি ডলারের। ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ২০২১ সাল নাগাদ উভয় দেশের বাণিজ্য ১ হাজার ৮শ’ কোটি ডলার ছাড়াবে।

 বৈঠকে ডিসিসিআই সহ-সভাপতি ইমরান আহমেদ, পরিচালক দ্বীন মোহাম্মদ, এনামুল হক পাটোয়ারী, হোসেন এ সিকদার, ইঞ্জিনিয়ার মো. আল আমিন, মোহাম্মদ বাশীর উদ্দিন, শামস মাহমুদ এবং এস এম জিল্লুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।