খাগড়াছড়ির রামগড়ে সশস্ত্র উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের হাতে অপহরণের ১২ ঘন্টা পর আড়াই লক্ষ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে ছাড়া পেয়েছে তিন ব্যবসায়ী। গতকাল মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। মুক্তিলাভের পর রাত সাড়ে ৮টায় অসুস্থ হয়ে পড়া অপহৃত তিন ব্যবসায়ী আবুল খায়ের(৫২), তার ছোট ভাই মো: শাহজাহান(৪৫) ও মো: মোস্তফা(৩৫)কে রামগড় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরা তিন জনই রামগড় পৌরসভার শশ্মানটিলা ও বল্টুরাম টিলা এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় বাঁশ ও কলা ব্যবসায়ী।
জানা যায়, প্রতিদিনের মত মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে মো: শাহজাহান ব্যবসার কাজে রামগড়ের পিলাকছড়া এলাকায় গেলে একদল পোশাকধারী সশস্ত্র উপজাতীয় সন্ত্রাসী অস্ত্রের মুখে তাকে ধরে নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর একই কায়দায় আবুল খায়ের ও মোস্তফাকে তারা পার্শ্ববর্তী জঙ্গলের ভিতর নিয়ে যায়। সেখান থেকে প্রায় ৫-৬ কিলোমিটার হাঁটিয়ে গহীন জঙ্গল ঘেরা একটি টিলার উপর নিয়ে হাত ও চোখ বেধে আটকে রাখে। অপহরণকারীরা তাদের কাছে আট লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। দরকষাকষির মাধ্যমে দুই লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় মুক্তি দিতে রাজী হয় তারা। পরে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে গহীন ঐ জঙ্গলে মুক্তিপণের আড়াই লক্ষ টাকা পৌঁছে দেয়ার পর তিনজনকে ছেড়ে দেয়া হয়।
রামগড় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অপহৃত আবুল খায়ের জানান, ৩০-৩৫ জন অস্ত্রধারী পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা সকলেই সেনাবাহিনীর মত পোশাক পরা ছিল। গভীর জঙ্গলের ভিতরে নিয়ে তাদের আটকে রেখে সন্ত্রাসীরা সেখানে একটি বড় গর্ত খুঁড়ে। মুক্তিপণের টাকার জন্য তাদের তিনজনকে হাত বেধে ঐ গর্তের ভিতরে ফেলে গুলি করে মারার ভয়ভীতি দেখায়। এ সময় হিরণ ত্রিপুরা নামে স্থানীয় এক সাবেক ইউপি মেম্বার সন্ত্রাসীদের হাত পা ধরে তিন ব্যবসায়ীর প্রাণ ভিক্ষা চায়। ঐ ব্যবসায়ী আরও জানান, সন্ধ্যার পর লোক মারফতে মুক্তিপণের আড়াই লক্ষ টাকা পোঁছানোর পর টাকাগুলো গুণে নিয়ে সন্ত্রাসীরা তাদের ছেড়ে দিয়ে চলে যায়। তিনি বলেন, তাদের পরিবার ঘরের স্বর্ণালংকার ও বাড়ি বন্ধক দিয়ে মুক্তিপণের আড়াই লাখ টাকা জোগাড় করে।
রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো: মাইন উদ্দিন খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জেএসএস(সংস্কার)এর সন্ত্রাসীরাই এ অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় করেছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।
তিনি বলেন, এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্ততি নেয়া হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এএন