ছুটে যাওয়া গরু ফেরত না দেয়ায় অভিমানে সঞ্জিত কুমার রনজিত (১৭) নামে এক কলেজ ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনায় পুলিশের বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। মহাদেবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক খানকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বিপিএম-পিপিএম।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক খান দুপুরে ঘটনাস্থল মান্দা উপজেলার বাঁকাপুর গ্রামে তদন্তে গিয়ে সঞ্জিত কুমারের মা, জ্যাঠা এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় অনেকের লিখিত বক্তব্য সহকারে নাম ও ঠিকানা সংগ্রহ করেছেন।
এদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে ঘটনা ভিন্নখাতে নেয়ার অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদনে সঠিক তথ্য উৎঘাটন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় জনমনে।
সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ডা. এসএম ফজলুর রহমান জানান, চলতি মাসের ৪ তারিখ মঙ্গলবার সকালে সঞ্জিত কুমার আত্মহত্যার পর পুলিশের সঙ্গে মতিউর রহমানের লোকজনের দফায় দফায় বৈঠক শেষে মোটা অংকের উৎকোচের মাধ্যমে নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই তড়িঘরি করে দাহ করা হয়। এদিকে এই ঘটনার প্ররোচনাকারী মতিউর রহমানকে (৩২) দুইদিন পর আটক করা হলেও মদ্যপানের অভিযোগ এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও দেশের বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। উপরন্ত স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের মদদে মতিউর রহমানের লোকজন নিহতের অসহায় পরিবারদের উপর বিভিন্ন হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। যে কারণে নিহতের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন পুলিশের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় রণজিতের বাড়ির গোয়াল থেকে একটি ষাঁড় গরু ছুটে যায়। পরদিন মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে রণজিত জানতে পারেন, একই গ্রামের মতিউর রহমান তার বাড়িতে গরুটি আটকে রেখেছেন। পরে মতিউরের বাড়ি গিয়ে গরুটি চিনতে পারায় ফেরত চান। গরুটি নিজের বলে দাবি করেন মতিউর। স্থানীয়দের সহযোগিতায় গরুটি উদ্ধার করতে না পারায় রণজিত তার নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন। সে মৃত্যুর পূর্বে চিঠিতে লিখে গেছেন “হারানো গরু পাওয়ার পরও ফেরত না দেওয়ায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
ইত্তেফাক/এএসএমইউ