মানিকগঞ্জের সদর উপজেলার কালীগঙ্গা নদীর কোল ঘেষা নির্জন একটি গ্রাম আন্ধারমানিক। এক সময় প্রচুর গাছ গাছালি আর জঙ্গলে ভরা ছিল গ্রামটি। এই গ্রামের মানুষের সকাল আর সন্ধ্যা হয় বেরসিক কাকের ডাকে। কাককে সবাই তাচ্ছিল্যের চোখে দেখলেও এই গ্রামের সবাই কাক ভালবাসে।
আন্ধারমানিক গ্রামকে সবাই কাকের গ্রাম হিসেবেই চেনে। এই গ্রামে গাছে হাজার হাজার কাক বাসা বেধেছে । সন্ধ্যা হলেই কোথা থেকে যেন তারা দলবেধে ছুটে আসে আবার ভোর হলেই চলে যায়।
আন্ধারমানিক গ্রামের ধীরেন ঘোষ (৮৫) জানান, এক সময় এই গ্রামটি ঘন জঙ্গলে আবদ্ধ ছিল। এর পরিবেশটাও ছিল শান্ত। যে কারণে প্রচুর পাখি আসত এখানে। অন্যান্য পাখিদের সাথে কাকও জায়গা করে নিয়েছিল। জঙ্গল কেটে মানুষ বাড়ি ঘর তৈরি করার পর পরই পাখিরা সব চলে গেলেও কাকেরা জায়গা ছাড়েনি। তার জন্মের আগে থেকেই এখানে কাকেরা বাসা বেধেছে বলে জানালেন ধীরেন ঘোষ।
কলেজছাত্র প্রনয় জানান, সকালে আর সন্ধ্যায় কাকের ডাকাডাকি শুরু হয়ে যায়। প্রথম প্রথম এলাকার লোকজন এদের গ্রাম ছাড়া করতে অনেক চেষ্টা করেছে । কিন্তু এখন এরা যেন সবার আপন হয়ে গেছে। এখন শিকারি দেখলেই গ্রামের সবাই তাড়া করে। কেউ ঢিল ছুড়লেও গ্রামের বয়োজেষ্ঠ্যরা গালমন্দ করে।
গ্রামের বউ বাসন্তী রানী সরকার জানান, বিয়ের পরে প্রথম প্রথম অনেক বিরক্ত লাগত। কিন্ত এদের ছুটাছুটি এখন ভালই লাগে। বাড়িতে আমার ঘড়ি নেই । ওরাই আমার ঘড়ি। ওদের ডাকাডাকিতে সকাল আর সন্ধ্যা টের পাই।
ইত্তেফাক/ইউবি