ধুনটে দপ্তরির পরিত্যক্ত ঘরে শিশুদের পাঠদান!

টিনের তৈরি পরিত্যক্ত ঘর, চারদিক উন্মুক্ত, আবর্জনার দুর্গন্ধ, নেই কোনো বেড়া সেখানেই পড়ানো হচ্ছে শিশুদের। বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীকে পড়ানো হচ্ছে একই বাড়ির একটি বারান্দায়। মাটিতে চট বিছিয়ে তার ওপর বসেছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা। ঘরের এক অংশ চালানো হয় অফিসের কাজকর্ম। এটি বিদ্যালয়ের দপ্তরির বাড়ির পরিত্যক্ত একটি ঘর। শিশু শিক্ষার্থীদের এমন পাঠদানের চিত্র বগুড়ার ধুনট উপজেলার রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
 
যমুনা নদীর তীরবর্তী ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পশ্চিম পাশে রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছে ১৯৭৩ সালে। যমুনা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে অবকাঠামো কয়েকবার স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। এ অবকাঠামোগত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বর্তমানে প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বার বার নদী ভাঙনের শিকার হওয়ায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হতো একটি টিনের ঘরে। সংস্কারের অভাবে সেই ঘরের অবস্থাও নাজুক হয়ে পড়ে। প্রায় চার মাস আগে ঘরটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে চার লাখ টাকা। সংস্কার কাজের দেখভাল করছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার কিছুদিন পরেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় বন্যা। থেমে যায় কাজ। বন্যার পানি নেমে গেলেও রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে পুনরায় কাজ শুরু করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ফলে বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়ের দপ্তরি সাইফুল ইসলামের বাড়িতে পাঠদান কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকেরা।
 
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতিবছরই বন্যার কারণে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়। বন্যার পানি নেমে গেলে আবার কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু এবার বন্যার পানি নেমে গেলেও বিদ্যালয়ের ঘরটি সংস্কার কাজ শুরু না করায় শিক্ষার্থীদের দপ্তরির বাড়িতে পাঠদান করাতে হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার গোসাইবাড়ী বাজার থেকে শহড়াবাড়ী যমুনা নদীর ঘাট পর্যপ্ত পাকা রাস্তাটি বন্যার পানির স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ওই রাস্তা দিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বিদ্যালয়ের ঘর সংস্কারের জন্য ইট, বালু ও সিমেন্ট আনতে পারছেন না। এ কারণে সংস্কার কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে রাস্তাটি সংস্কারের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রাস্তার কাজ শেষ হলেই বিদ্যালয় সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। আপাতত শিক্ষার্থীদের পাঠদান সমস্যা হলেও কিছু করাই নেই।
 
ইত্তেফাক/এএন