লাল সবুজের বাংলাদেশ

বাংলার আদিগন্ত প্রকৃতি গাঢ় সবুজে ঢাকা। এই বাংলাদেশকে অর্জন করতে প্রাণ দিয়েছে ৩০ লাখ মানুষ। আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম রক্তের দামে কিনেছে বাংলাদেশ। সে জন্যই আমাদের জাতীয় পতাকা গাঢ় লাল সবুজের। বিপ্লবী স্বাধীন বাংলার পতাকা ছিল ভিন্ন। সবুজ জমিনে লাল বৃত্তের মাঝে হলুদ রঙে বাংলাদেশের মানচিত্র। পতাকার এই লাল সবুজ রঙ হাল আমলে এসে উঠে এসেছে তরুণ প্রজন্মের পোশাকে। পতাকার সবুজ রং বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক, বৃত্তের   লাল রং উদীয়মান সূর্য, স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোত্সর্গকারীদের রক্তের প্রতীক। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রায় একই রকম দেখতে একটি পতাকা ব্যবহার করা হতো, যেখানে মাঝের লাল বৃত্তের ভেতর হলুদ রংয়ের একটি মানচিত্র ছিল। ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশের পতাকা থেকে মানচিত্রটি সরিয়ে ফেলা হয়।

সবুজ শাড়ি আর লাল ব্লাউজ পরার চল তো অনেক দিনের। এর পাশাপাশি সবুজ লাল কম্বিনেশনে আধুনিক ডিজাইনে তা স্থান পেয়েছে শাড়িতে। শুধু শাড়ি কেন সালোয়ার কামিজ, ছেলেদের পাঞ্জাবি— সবকিছুতেই। তবে বাংলাদেশের পোশাকে জাতীয় পতাকা সবচেয়ে ভালো ফুটে ওঠে টি-শার্টে। গাঢ় সবুজ টিশার্টে বুকের মাঝে লাল বৃত্তটা যখন স্থান পায় তখন মনে হয় হূদয়ে ‘বাংলাদেশ’।

স্বাধীনতা দিবসকে উপলক্ষ করে ফ্যাশন হাউসগুলো সেজেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। তরুণরা বলছে, পোশাক পরে শুধু স্টাইল করার জন্য নয়, হূদয়ে ধারণ করার বহিঃপ্রকাশ এটা। ডিজাইনগুলোও করা হয় সেদিকটাকে ঠিক রেখে। এবারের পোশাকগুলোতে লাল-সবুজের সঙ্গে সাদা ও কালোর সংমিশ্রণে ব্লক প্রিন্ট করা হয়েছে। রয়েছে এম্ব্রয়ডারি এবং কারচুপির কাজ। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের কবিতা ও গানের পংক্তিও ব্যবহার করা হয় ডিজাইন হিসেবে। যা ফ্যাশন ট্রেন্ডে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা’— এমনি জনপ্রিয় সব কবিতা ও গানের লাইন উঠে আসে শাড়ি, পাঞ্জাবি ও সালোয়ার কামিজে।

স্বাধীনতার মহিমাকে পোশাকে ধরে রাখতে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। তাদের অনুসরণ করে দেশের আনাচে কানাচে গড়ে ওঠা বুটিক হাউজগুলোতেও এখন স্থান পেয়েছে লাল সবুজে পোশাক। স্বাধীনতার মাসে স্বাধীনতার মহিমাকে পোশাকের মাধ্যমে সমুন্নত করতে সচেষ্ট হয়েছে ফ্যাশন হাউসগুলো। তরুণ প্রজম্মের মধ্যে স্বাধীনতার আবেগ ছড়িয়ে দিতে প্রতিবারই থাকে বিশেষ পোশাকের আয়োজন যা লাল সবুজে উজ্জীবিত। এবারও রয়েছে সেই লাল সবুজের সম্ভার, সাথে অন্য রং এবং শিল্পের ছোঁয়া।

স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে মার্চ আর বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে  ডিসেম্বর জুড়েই স্বাধীনতা দিবসের পোশাক পাওয়া যায় বিভিন্ন দেশীয় ফ্যাশন আউটলেটে। সব বয়সীর পোশাক পাওয়া গেলেও তরুণ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখেই ডিজাইন করা হয় এসব পোশাক। তবে মেয়েরা শাড়িতেই প্রধানত ধরে রাখে এই লাল সবুজকে। আর ছেলেদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবি, ফতুয়া। বাচ্চাদের জন্যও রয়েছে আয়োজন। টি-শার্ট, টপস এবং ফতুয়া, পাঞ্জাবি এবং শাড়িও। তরুণ-তরুণীদের জন্য বিশেষ ডিজাইনে বানানো হয় শর্ট, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, শর্ট কামিজ, টপস, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ প্রভৃতি। দামও খুব বেশি নয়।

এক্সক্লুসিভ ডিজাইনের পোশাক মূলত পাওয়া যাবে আড়ং, অঞ্জনস, বিবিয়ানা, রঙ বাংলাদেশ, নিপুণ প্রভৃতি ফ্যাশন হাউজে। এছাড়াও শাড়ির জন্য বেইলি রোড ও ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটেও এখন সুতি ও বেনারসি শাড়ি পাওয়া যায় লাল সবুজ কম্বিনেশনে।