ক্ষমতা দখলের জন্য হিংসা করা উচিত নয় :ড. কামাল

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করার জন্য হিংসা করা উচিত নয়। রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহার করা যাবে না। মানুষের মধ্যে ধর্মের ভিত্তিতে  কোনো বৈষম্য করা যায় না। এটা সারা দেশের মানুষ বিশ্বাস করে। বৈষম্য হলো নীতি, ঐতিহ্য ও ধর্মের পরিপন্থি। এ মূল্যবোধ জাগ্রত করেই এবারের স্বাধীনতা দিবস পালনের আহ্বান জানান তিনি। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় আহত ও নিহতদের প্রতি শোক ও সংহতি শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই আহ্বান জানান।

সভায় বেশিরভাগ বক্তা বলেন, সারা বিশ্বে যখন ঘৃণা-বিভাজনের রাজনীতির উত্থান ঘটছে, তখন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডেন এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ঘৃণা-বিভাজনের রাজনীতি দিয়ে কোনো দেশ এগোতে পারে না। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বিভাজনের রাজনীতি ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। তাই ঘৃণা, বিদ্বেষ, বিভাজনের রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানান তারা। ক্রাইস্টচার্চে হামলার পর শান্তি ও সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপনের জন্য জাসিন্ডাকে শান্তিতে নোবেল দেওয়ার দাবি জানান তারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। দেশেও অনেক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী গুম-খুনের শিকার হয়েছেন; কিন্তু কাউকে লজ্জিত হতে দেখা যায়নি। বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, ধর্ম যখন রাজনৈতিকভাবে ব্যবহূত হয়, তখনই তা মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত হয়। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, নিউজিল্যান্ডের ঠিক একটা বিপরীত জগতে আমরা বসবাস করছি। আমরা মানবতার চাষ করি না, হিংসার চাষ করি। আমাদের মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্র ও রাজনীতির মধ্যে ধর্ম আনা যাবে না।

বাংলাদেশে কোনো ঘটনা ঘটলেই ঘৃণা ও বিভাজন ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। তিনি বলেন, মতবিরোধ, সমালোচনা থাকবে; কিন্তু বিভাজন দূর করে রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ করতে জাসিন্ডা নতুন দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন।

জাসিন্ডাকে প্রকৃত মানবতার মা উপাধি দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল বলেন, বর্বরোচিত হামলার মাধ্যমে হামলাকারী যে অন্ধকার ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন, তা প্রতিরোধ করে দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও সাধারণ মানুষ। বিভেদ, বিদ্বেষ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে সংহতি জানিয়ে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, সাবেক সচিব মোফাজ্জল করিম চৌধুরী, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী প্রমুখ। সূচনা বক্তব্য দেন কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম এবং সভা সঞ্চালনা করেন জামায়াতের বহিষ্কৃত নেতা মজিবুর রহমান (মঞ্জু)।