আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিতদের আপিল নিষ্পত্তির জন্য আলাদা একটি বেঞ্চ গঠন দরকার। এখানে সরকার ও নীতি নির্ধারক যারা আছেন তাদের প্রতি পরামর্শ তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে একটি বেঞ্চ গঠন করে দেওয়া হোক এ মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষী, ভিকটিম, বিচারপ্রার্থী ও দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় নিয়ে যুদ্ধাপরাধের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। যে সমস্ত মামলা আপিলে বিচারাধীন রয়েছে সেসব মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ভিকটিম বা বিচার প্রার্থীদের এক ধরনের অতৃপ্তি আছে। গতকাল সোমবার ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরার সময় হান্নান খান এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আপিলে মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটা সুযোগ আছে। সেটা নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের উপর। যেটা অন্যান্য আন্তর্জাতিক আদালতেও হয়ে থাকে। কিন্তু গত প্রায় তিন বছর ধরে আপিল বিভাগে কোনো মামলা চূড়ান্ত পরিণতিতে যায়নি।
তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক বলেন, গত ৯ বছরে ট্রাইব্যুনালে যা হয়েছে তা প্রসিকিউশন, তদন্ত সংস্থা ও ট্রাইব্যুনালের সম্মিলিত ফল। এসব মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা কঠিন ছিল। আমরা বিচারই শুরু করেছি প্রায় চার দশক পরে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ৯ বছরে ট্রাইব্যুনালের ৩৫ মামলায় ৮৭ যুদ্ধাপরাধীর বিচার হয়েছে। ২৮টি মামলা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। আর আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে ২৩টি মামলা।