জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং দলের সধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন। জেপি নেতৃদ্বয় স্বাধীনতার ৪৯তম দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির জীবনে অবসান ঘটে পরাধীনতার ক্লেশ ও গ্লানির। ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে বাঙালি জাতির যে স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়েছিল, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে আমরা আবার ফিরে পাই প্রিয় স্বাধীনতাকে, অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের, প্রতিষ্ঠিত হয় বাঙালির নিজস্ব আবাস ভূমি। আজকের এই দিনে আমরা তাই গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র ভালোবাসায় স্মরণ করি সেই সব অকুতোভয় বীর সন্তানদের; যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছিল। একই সঙ্গে স্মরণ করছি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান; যারা লড়াই করে দেশকে হানাদারমুক্ত করেছিল। আমরা স্মরণ করি নির্যাতিত মা-বোনদের আর দেশবাসীর অমূল্য অবদানকে।
জেপি নেতৃদ্বয় আরো বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও আমরা ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতার গ্লানি থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্তি পাইনি। এই সংগ্রামে পূর্ণ বিজয় অর্জন করতে হলে আমাদের প্রয়োজন সুনীতি, সুশাসন ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করা এবং দুর্নীতি, দারিদ্র্য ও পশ্চাত্পদ চিন্তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত রাখা। দেশবাসীকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুখি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পার্টি-জেপি’র কর্মসূচি
আজ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সকালে জাতীয় পার্টি-জেপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সকল কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে ৮টায় সাভারে জতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। আগামীকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে গণহত্যা ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন দলের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি। আলোচনা সভায় অংশ গ্রহণ করবেন বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাগণ।
গণহত্যা দিবস ও কালরাত্রি পালন
জাতীয় পার্টি-জেপি কর্তৃক স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ৩ দিন ব্যাপী কর্মসূচির গতকাল ছিল প্রথম দিন। গণহত্যা দিবস হিসাবে দিনটি পালন করা হয়। গণহত্যা দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘শিখা অনির্বাণে’ জেপি’র নেতা ও কর্মীরা সমবেত হন এবং ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে যারা শাহাদত বরণ করেছেন তাদেরকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। শেখ শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসময় দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।