জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

মো. আতিকুল ইসলাম (জাহিদ)

সহকারি শিক্ষক

রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, রাজশাহী

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

 

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

জাতীয় স্কুল টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য ইমন, আফ্রিদি, ইসরাত, মাহিশা, ট্রেনে রাজশাহী থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। ট্রেনটি এম.মনসুর আলী স্টেশনে থামলে আফ্রিদি তার শিক্ষকের কাছে এম.মনসুর আলী সম্পর্কে জানতে চায়। তার শিক্ষক বললেন,‘এম. মনসুর আলী এমন এক সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন  সে সরকারের রাষ্ট্র প্রধান এবং সরকার প্রধান কারাগারে বন্দি ছিলেন।’

ক. মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?

খ. বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধে নিয়মিত বাহিনী কিভাবে গঠিত হয়?

গ. উদ্দীপকে কোন সরকারের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে উক্ত সরকারের ভূমিকা মূল্যায়ন করো।

ক. উত্তর: মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান সেনাপতি ছিলেন ক্যাপ্টেন এ.কে খন্দকার।

খ. উত্তর: মুক্তিবাহিনী সরকারি পর্যায়ে দুইটি শাখায় বিভক্ত ছিল।

(১) নিয়মিতবাহিনী

(২) অনিয়মিত বাহিনী।

ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের ইউনিটগুলোর বাঙালি সৈনিকদের নিয়ে নিয়মিতবাহিনী গঠিত হয়। সরকারিভাবে এদের নামকরণ করা হয় এম.এফ বা মুক্তিফৌজ। মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকারনিয়মিত বাহিনীহিসাবে সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীও গড়ে তোলে।

গ. উত্তর: উদ্দীপকে যে সরকারের কথা বলা হয়েছে তা হলো মুজিবনগর সরকার। এই সরকারকে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার আবার কখন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার ও বলা হয়। এ সরকারের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত ও পরিচালিত হয়।

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিবনগর বা বাংলাদেশ সরকার। মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। উক্ত সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়। অর্থমন্ত্রি ছিলেন এম. মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্র ত্রাণ ও পূণর্বাসন মন্ত্রী এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান, পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

যেহেতু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কারাগারে বন্দি ছিলেন এবং মুজিবনগর সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী। সুতরাং আমরা বলতে পারি উদ্দীপকে আলোচিত সরকারটি হলো মুজিবনগর সরকার।

ঘ. উত্তর: উদ্দীপকে আলোচিত সরকারটি হলো মুজিবনগর সরকার আর এই সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুজিবনগর সরকার সামরিক এবং বেসামরিক উভয় ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত করে। মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

বাঙালি কর্মকর্তাদের নিয়ে এ সরকার প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করেছিলো। প্রত্যেক দেশের শাসন ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ও এর অধীনে দপ্তর থাকে। মুজিবনগর সরকারেরও তা ছিল। এতে মোট ১২ টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছিল। মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর যেমন-কলকাতা,দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, স্টকহোম প্রভৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন করেন। এসব মিশন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা ও আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে। সরকার বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব নেতৃত্ব ও জনমতের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন। ১০ ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক, বেসামরিক জনগণকে নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সরকার বাংলাদেশকে মোট ১১টি সেক্টরে ভাগ করে এবং ১১জন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করে।  পরিশেষে বলতে পারি, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দান, ভারতে শরণার্থীদের ত্রাণ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা, মুক্তিযোদ্ধা ও গেরিলা যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিচালনা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিশ্বজনমত গড়ে তোলা যুদ্ধ চলাকালীন এদেশের জনগণের মনোবল অটুট রেখে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে মুজিবনগর সরকারই মূখ্য ভূমিকা পালন করে।