হাতীবান্ধায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ আহত পাঁচ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় গতকাল মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ পাঁচজন আহত হয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা সাংবাদিকের ক্যামেরা ভাঙচুর করেছে।

জানা যায়, সকালে টংভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম হোসেনের নেতৃত্বে মাদক মামলার তালিকাভুক্ত আসামি সিরাজুল ইসলাম, সাবেক শিবির ক্যাডার সদরুল আমিন রিপন ও তার ছোটভাই খোকনসহ কয়েকজন দৈনিক মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সাজুর ওপর হামলা চালায়। এ সময় দৈনিক আমাদের সময়ের হাতীবান্ধা উপজেলা প্রতিনিধি নুরনবী সরকার ও পথচারী শরীফ মোল্লা হামলার শিকার হন। আসাদুজ্জামান সাজু ও শরীফ মোল্লাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সাংবাদিক সাজুর অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য কর্তব্যরত ডাক্তার রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে লিয়াকত হোসেন বাচ্চু ও সরওয়ার হায়াত খান গ্রুপের লোকজনের মাঝে সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। পরে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় সংসদ সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন দলীয় অফিস ত্যাগ করেন। ওই ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার সকাল থেকে লিয়াকত হোসেন বাচ্চু গ্রুপের নেতা-কর্মীরা সেলিম হোসেনের নেতৃত্বে শহরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে শহরে মিছিল করে। এ সময় অপরদিক থেকে সরওয়ার হায়াত খানের গ্রুপের লোকজন স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডে এলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে লিয়াকত হোসেন বাচ্চুর লোকজন মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান সাজু, আমাদের সময়ের উপজেলা প্রতিনিধি নুরনবী সরকার ও  পথচারীর ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ পাঁচজন আহত হয়েছে।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, উপজেলার আমতলা এলাকায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনাটি দুঃখজনক।