বিশ্ব উদ্যোক্তা সপ্তাহ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে বার্তা

নভেম্বরে, আমরা বিশ্ব উদ্যোক্তা সপ্তাহ উদযাপন করি, এটি উদ্ভাবক ও চাকরি দাতাদের এক সপ্তাহব্যাপী  উদযাপন যারা স্টার্টআপ শুরুর মাধ্যমে জীবনে নতুন ধারণা এনেছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সঞ্চালন করেছে, এবং মানুষের সমৃদ্ধির ক্ষেত্র বিস্তৃত করেছে। ২০০৭ সালে প্রথম বিশ্ব উদ্যোক্তা সপ্তাহের পর  থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ সারা বিশ্বব্যাপী ১০০টিরও বেশী দেশে হাজারো চমৎকার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছে।  
 
শুধুমাত্র গত বছরেই যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও কনসুলেট অন্তত ৭৫টি দেশে ১২৫টির বেশী অনুষ্ঠানে হয় অংশ নিয়েছে অথবা আয়োজন করেছে, এবং বাংলাদেশে গত বছর আমরা একমাত্র “মেকারস্পেস” চালু করি এডওয়ার্ড এম. কেনেডি সেন্টার ফর পাবলিক সার্ভিস এন্ড দি আর্টস-এ, যা এমন একটি যৌথ কাজের স্থান যেখানে উদ্যোক্তা, প্রকৌশলী, অডিও ও ভিজুয়াল শিল্পী এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা একত্রিত হয়ে উদ্ভাবন ও সমস্যা সমাধানে কাজ করে থাকে।
                   
উদ্যোক্তারা আমেরিকার অর্থনীতিকে প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, শিল্প এবং জ্বালানী উদ্ভাবনের বৈশ্বিক প্রাপ্তিস্থানে রূপান্তরিত করেছে- যা আপনাদের পকেটের ফোন থেকে পৃথিবীর বাইরে মালবাহী ব্যক্তিগত মালিকানাধীন নভোযান, ছাদের সৌর টালি পর্যন্ত বিস্তৃত ।  যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে ব্যক্তিগত উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে যা ২০১৫ সালে নতুন ব্যবসার মাধ্যমে ৩০ লক্ষ কর্মসংস্থান এর সৃষ্টি করেছে।
 
ব্যক্তিগত উদ্যোক্তার উন্মেষ বাংলাদেশেও ঘটছে-  যার মধ্যে রিকশাচালকদের নতুন শহরে  আবির্ভাব থেকে সামাজিক উদ্যোক্তাদের মাইক্রোফিন্যান্স শিল্প ও মোবাইল এর মাধ্যমে লেন-দেন এর রূপান্তর রয়েছে। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যখন লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকার উন্নয়ন ঘটাচ্ছে, এমতাবস্থায় আরও বৃহত্তর সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের চাবিও সামনে রয়েছে। যেমন, স্টার্টআপ মূলধনের বৃদ্ধি, মেধাস্বত্ত্ব অধিকারের সংরক্ষণ, সহায়ক ব্যবসা পরিবেশ বান্ধব ব্যবস্থার উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তরের মাধ্যমে শ্রম বাজারে দক্ষ জনশক্তির যোগান দেওয়া, এবং অধিকতর টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
 
তরুণ ও নারীদের জন্য অর্থনৈতিক নীতি প্রবর্তন সকলকেই সমৃদ্ধিশালী করে। আপনারা কী ধরনের সুযোগ দেখেন  তরুণদেরকে দেশের সমস্যা সমাধানে উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজতে সক্ষমতা তৈরিতে অথবা বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক অংশ নারীদের সৃষ্টিশীল মেধা ও জীবিকার ক্ষমতাকে জাগিয়ে তুলতে? জাতিসংঘ বিশ্ব উদ্যোক্তা সপ্তাহ উদযাপন করছে ১৯শে নভেম্বর। আমি আপনাদেরকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি নারীরা কী ধরনের বাধার সম্মুখীন হয় তা চিহ্নিত ও ভেঙ্গে ফেলতে বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টায় যোগ দিতে, যেমন  বৈষম্যমূলক আচার, যা তাদেরকে বাধা দিয়ে থাকে ব্যবসা শুরু করতে বা প্রবৃদ্ধি করতে।
 
প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন যে উদ্যোক্তা চেতনা মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানে এক সাথে  কাজ করার সক্ষমতা প্রদান করে, যা জলবায়ু পরিবর্তন থেকে দারিদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত।  তিনি উদ্যোক্তাদের সাধুবাদ জানান যারা ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেয়, ভাল বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে যা উন্নয়নশীল অর্থনীতিকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে চলে। বাংলাদেশী নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুস বলেছেন মানুষ জন্মগতভাবে উদ্যোক্তা।  অনুগ্রহ করে আসুন এই সপ্তাহে আমার সাথে যোগ দিয়ে আমাদের সবার ভেতরের সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাকে আমরা স্বীকৃতি দেই।  একসাথে চলুন আমরা উদ্যোক্তা চেতনার উন্মেষে নতুন দিক উদ্ভাবন করি এবং বাংলাদেশকে স্টার্টআপ জাতি হিসেবে এগিয়ে নিয়ে চলি। 
 
লেখক, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত
 
ইত্তেফাক/এসএসএ