বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী

বাংলাদেশ ও বিশ্ব একাদশের ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা

পরপর দুটি বড় উপলক্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। আগামী বছরের নতুন সূর্যে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করবে বাংলাদেশ। পরের বছর স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হবে বাংলাদেশের। ক্রিকেট উত্সবের মাধ্যমে দুটি বড় উপলক্ষই রাঙাতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

স্মরণীয় কিছু করতে চায় বিসিবি। বাংলাদেশ একাদশ ও বিশ্ব একাদশের মধ্যে ওয়ানডে ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা শুরু করেছে বিসিবি। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে এমন তথ্যই জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। এই উপলক্ষে আইসিসির সহযোগিতায় বিশ্বসেরা ক্রিকেটারদের ঢাকায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিসিবি। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলোর তারকা ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালাবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা। গতকাল এই বিষয়ে আলোচনাও হয়েছে বিসিবিতে।

আগামী বছর বড় কিছু আয়োজন করা হবে জানিয়ে গতকাল নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ‘সামনে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আছে। তার পরের বছর আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। এটাকে উপলক্ষ করে আমরা এখন থেকেই একটা প্ল্যান করছি। আমরা ইতিমধ্যে এটা নিয়ে কথাবার্তা বলছি। আমরা এমন একটা কিছু করতে চাচ্ছি যেখানে সারা পৃথিবীর যারা ক্রিকেট দেখে, তারা যেন একসাথে বসে দেখতে চায়। তবে এটা খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, এখনো কারো সাথে আলাপ হয়নি।’

বাংলাদেশ একাদশ ও  বিশ্ব একাদশের মধ্যে ম্যাচ হবে কিনা জানতে চাইলে বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘হতে পারে। কি করলে বেশিরভাগ দেশের খেলোয়াড়, শুধু বেশিরভাগ দেশের খেলোয়াড় না, নামকরা খেলোয়াড় যারা আছে তাদেরকে কিভাবে আনা যায়, সেই জিনিসটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা চাই সবচেয়ে নামকরা ক্রিকেটাররা এখানে এসে খেলবে। এটা নিয়ে আলাপ করছি।’

আইসিসির স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করা হবে। আকর্ষণীয় কিছু করতে চায় বিসিবি। গতকাল বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘প্রথমে আমরা চাচ্ছি আইসিসির স্বীকৃতি। তাহলে আমরা এক ধাপ এগিয়ে গেলাম। পরের কাজ হচ্ছে, বড় বড় দেশের সাথে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। তারপর আমাদের দেখতে হচ্ছে কোথায় ফাঁকা আছে, যেখানে সবাই ব্যস্ত না এবং তাদের সেরা প্লেয়ারদের পাওয়া সম্ভব। তারপর নির্ভর করবে সেরা প্লেয়াররা আমাদের এখানে আসতে চায় কিনা। আমরা চেষ্টা করছি সবচেয়ে আকর্ষণীয় একটা খেলা বাংলাদেশে করার জন্য।’

ইতিমধ্যে ম্যাচ আয়োজনের জন্য সহযোগিতা চেয়ে আইসিসিকে চিঠিও লিখেছে বিসিবি। ২০০০ সালে সর্বশেষ ঢাকায় এমন ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ৮ এপ্রিল ওয়াসিম আকরামের নেতৃত্বে এশিয়া একাদশ খেলেছিল মার্ক ওয়াহ’র বিশ্ব একাদশের বিরুদ্ধে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এশিয়া একাদশের হয়ে খেলেছিলেন শচীন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি, সনাথ জয়াসুরিয়া, মুত্তিয়া মুরালিধরনরা। বিশ্ব একাদশে মাইকেল বেভান, জ্যাক ক্যালিস, ল্যান্স ক্লুজনার, অ্যাডাম গিলক্রিস্টরা অংশ নিয়েছিলেন। ম্যাচটা অবশ্য ১ রানে জিতেছিল এশিয়া একাদশ। ১৯ বছর পর ঢাকায় একই ধরনের ম্যাচ আয়োজন করার চিন্তা করছে বিসিবি।