জিআর টিআর ও কাবিখার পর ত্রাণের কম্বলেও অনিয়মের অভিযোগ

 
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ (কাবিখা), ‘টেস্ট রিলিফ’ (টিআর) ও জিআর প্রকল্প এবং ব্রিজ, কালভার্ট, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে সরকারের বিশেষ বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিনব কৌশল দেখে বিষ্ময় প্রকাশ করেছিল এই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বিশেষ করে, খোদ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নামেও ভুয়া চাহিদাপত্র তৈরি করে বরাদ্দের অর্থ, গম ও ঢেউটিন নয়ছয় করার অভিযোগে কমিটি ক্ষোভ প্রকাশ করে। এবার ত্রাণের কম্বলেও অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে সংসদীয় কমিটি।
 
এসব অভিযোগ সম্পর্কে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামালকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছে সংসদীয় কমিটি। সচিব আগামী ররিবার অনুষ্ঠেয় সংসদীয় কমিটির বৈঠকে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। এই প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনার পর ওইদিন জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করবে সংসদীয় কমিটি। এ ব্যাপারে সংসদীয় কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ইত্তেফাককে বলেন, ‘অভিযোগগুলো গুরুতর। সচিবের প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য মনে না হলে সংসদীয় কমিটি নিজেরাই তদন্ত করবে। এমনটি অভিযোগগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কমিটি দুর্নীতি দমন কমিশনকেও (দুদক) সুপারিশ করবে।’ তিনি জানান, সার্বিক বিষয়ে রবিবার গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
 
বিশেষ সূত্রে প্রাপ্ত সংসদীয় কমিটিতে জমা পড়া অভিযোগে দেখা যায়, ২০১৪-’১৫ ও ২০১৫-’১৬- এই দুই অর্থবছরে দরপত্রের মাধ্যমে তিন স্তরে প্রায় ৫০ কোটি টাকার কম্বল সরবরাহ নেয় ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এই দরপত্রে এক পরিবারেরই মালিকানাধীন বিভিন্ন প্যাডসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। সিন্ডিকেটের কারণে অন্য কেউ দরপত্রে অংশ নিতে পারেনি। ওই দুই অর্থবছরের কম্বল সরবরাহের দরপত্রে জনৈক আকাশ তার নিজের নামে থাকা দুটি প্রতিষ্ঠান এবং স্ত্রী-সন্তানের নামে খোলা প্রতিষ্ঠানের নামে অংশ নেয়। অন্য কেউ দরপত্রে অংশ নেয়নি। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী প্রতিটি কম্বলের ওজন হওয়ার কথা ছিল ২ কেজি ৩শ গ্রাম করে। কিন্তু বাস্তবে কোনটির ওজন ১ কেজি, কোনটি ১ কেজি ৩শ থেকে ১ কেজি ৭শ গ্রামের বেশি নয়। তাছাড়া সরবরাহকৃত কম্বল ব্যবহার অনুপযোগী ও নিম্নমানের হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এসব কম্বল সরকারি ত্রাণ ভা্লারে পড়ে আছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী সরকার প্রতিটি কম্বল কিনেছে ৬শ টাকা করে। কিন্তু সরকারকে যেই মানের কম্বল সরবরাহ করা হয়েছে, সেগুলোর বাজারমূল্য ৭০ থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার মধ্যে। সংসদীয় কমিটিতে জমা পড়া ওই অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরেও মন্ত্রণালয় প্রায় ৫০ কোটি টাকার কম্বল সরবরাহের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করেছে। এই দরপত্রেও অনিয়ম হচ্ছে।
 
এর আগে গত ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কাবিখা, টিআর ও জিআর প্রকল্পে অনিয়মের ঘটনায় কমিটির সদস্যদের কারও কারও সঙ্গে ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার বচ্সা’র ঘটনাও ঘটে। ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু জানান, অভিযোগগুলো সম্পর্কে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকা মন্ত্রী মোফাাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। মন্ত্রী কমিটিকে বলেছেন ‘মন্ত্রণালয় অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবে। সত্যতা পাওয়া গেলে মন্ত্রণালয়ও ব্যবস্থা নেবে।’
 

ইত্তেফাক/এএম।