জবির বেহাল ক্যান্টিনে খাবারের বাড়তি দাম

বিপাকে শিক্ষার্থী, ভর্তুকি বাজেট দিতে নারাজ

প্রশাসন, আশ্বাস ছাত্র কল্যাণ পরিচালকের

আহসান জোবায়ের

রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার একযুগ পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের খাবারের সুব্যবস্থা করতে পারেনি। ২০ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য ১৩৬ আসনের একটি মাত্র ক্যান্টিনে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হলেও নেওয়া হচ্ছে বাড়তি দাম। ক্যান্টিনে ভাতের নির্ধারিত মূল্য আট টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা বা তার বেশি। আর নিম্নমানের খাবারে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ভুগছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যান্টিনে বিদ্যুত্, গ্যাস, পানি বিল ছাড়া কোনো ভর্তুকি বাজেট দেন না। প্রশাসনের দাবি, ক্যান্টিনে ছাত্ররা তাদের টাকা দিয়ে কিনে খাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভর্তুকি দিবে কেন?

জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের টাকা দিয়ে ক্যান্টিনে খাবার কিনে খাবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখানে টাকা দিবে কেন? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যান্টিনের পানি, বিদ্যুত্, গ্যাসের বিলসহ অন্য আসবাবপত্রের যাবতীয় বিল দেয়। এ সময় তিনি ক্যান্টিনের সকল বিষয়ে ছাত্র কল্যাণ পরিচালকের সাথে কথা বলতে বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যান্টিনে ডিম-ভাত-ডাল মোট ২১ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকা, মাংস-ভাত-ডাল মোট ৩২ টাকার পরিবর্তে ৪৫ টাকা এবং ভর্তা-ভাত-ডাল মোট ১৩ টাকার পরিবর্তে ২৫ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। এছাড়া পরোটা চার টাকা হলেও এক টাকা বেশি নেওয়া হয়। এছাড়া অন্যান্য যে খাবার পাওয়া যায় সেগুলো খুবই নিম্নমানের। ভাত রান্না করা হয় মোটা চাল দিয়ে। যা শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে খায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর একমাত্র ক্যান্টিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বার্ষিক কোনো বাজেট দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের। কিন্তু অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য বাজেট বরাদ্দ আছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠনগুলো খাবারের দাম কমানোর জন্য দাবি করে আসছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যান্টিনে এলোমেলোভাবে পড়ে আছে ১৭টি টেবিল। প্রত্যেকটি টেবিলের সাথে আটটি করে চেয়ার থাকার কথা থাকলেও একটি চেয়ারও পাওয়া যায়নি। ফলে খাবার খেতে আসা শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়েই দাঁড়িয়ে খেতে হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনগুলো বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রোগ্রামে ক্যান্টিন থেকে চেয়ার নিয়ে গেলেও পরে তা আর ফেরত পাওয়া যায়নি। এছাড়া ক্যান্টিনে ১৬টি সিলিং ফ্যানের মধ্যে মাত্র পাঁচটি কোনো রকম চললেও বাকিগুলো অকেজো।

এদিকে ক্যান্টিনের রান্নাঘরের সাথেই কর্তৃপক্ষ দুটি টয়লেট নির্মাণ করেছে। রান্নাঘরের ভিতরে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। ক্যান্টিনের চুলার গ্যাস লাইন দীর্ঘদিন সংস্কার না করার কারণে লাইনে অনেকগুলো লিকেজ সৃষ্টি হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাকী ইত্তেফাককে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যান্টিনের জন্য অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যান্টিনের সার্বিক দিক দেখার জন্য বলেছে। আমি সেগুলো দেখে একটা বাজেট তৈরি করে সকল সমস্যা সমাধান করব।