দ্রুত এগিয়ে যাওয়া তিন দেশের একটি বাংলাদেশ

আলাউদ্দিন চৌধুরী

দেশের সকল মানুষের বিদ্যুত্ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসতে দ্রুত এগিয়েছে ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং বাংলাদেশ। মূলত: শক্তিশালী রাজনৈতিক অঙ্গিকার, নীতি বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা, বিদ্যুত্ বিতরণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং ভিন্ন উত্স হতে বিদ্যুত্ সংগ্রহ করায় এই দেশগুলো এগিয়েছে। শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় না আসলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে সবচেয়ে দ্রুত এগিয়েছে তিনটি দেশ। ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘ফস্টারিং ইফেকটিভ এনার্জি ট্রানজিশন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমনটি উঠে এসেছে। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী বিদ্যুত্ খাতে অবস্থার উন্নতির সূচকে (এনার্জি ট্রানজিশন ইনডেক্সে) ১১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯০তম। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নেপাল ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও ভারত ও শ্রীলঙ্কা থেকে পিছিয়ে রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী গড়ে জ্বালানির দাম কমে আসলেও বসতবাড়িতে বিদ্যুত্ ব্যবহারের খরচ আগের চেয়ে বেড়েছে। মূলত ১১৫টি দেশের তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। দেশগুলোর জ্বালানি খাত ভবিষ্যত্ চাহিদা পুরণে সক্ষমতা, বিনিয়োগ, টেকসই অবস্থান ও নিরাপদ কিনা সে বিষয়গুলো দেখা হয়েছে। সেইসাথে জ্বালানির মূল্য সাধারণের নাগালের মধ্যে রয়েছে কি না, বিদ্যুত্ উত্পাদনে পরিবেশের বিষয়গুলো, কারিগরি ব্যবহারের বিষয়গুলো সূচকে অবস্থান পেয়েছে। প্রতিবেদনে বিদ্যুত্ উত্পাদনে জ্বালানির আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উত্স   খুঁজে বের করার প্রতি উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, সৌর বিদ্যুত্, বায়ু চালিত এবং জল বিদ্যুতের বিভিন্ন সুপারিশ উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এশিয়ার উদীয়মান দেশগুলোতে বিশ্বের অর্ধেক জনগোষ্ঠী বসবাস করছে। এজন্য উদীয়মান ও উন্নয়নশীল এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি ব্যবহার তুলনামূলক বেশি। গত ৮ বছরে এসব দেশে বিদ্যুত্ উত্পাদনে প্রাথমিক জ্বালানির ব্যবহার ২৮ শতাংশ বেড়েছে। বিদ্যুত্ উত্পাদন খরচ বেড়ে গেলে এসব দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে সূচকে পিছিয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে।

‘এনার্জি ট্রানজিশন ইনডেক্সে’ শীর্ষক সূচকে শীর্ষে অবস্থান করছে সুইডেন। এর পরেই রয়েছে সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড ও আইসল্যান্ড। তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে ৯০তম অবস্থানে। এছাড়া ভারত ৭৬তম, শ্রীলঙ্কা ৬০তম, নেপাল ৯৩তম, পাকিস্তান ৯৭তম অবস্থানে। মূলত, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার, কার্বন নিসরণ কমিয়ে আনার মতো উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে ইউরোপের দেশগুলো সূচকের উপরে অবস্থান করছে। এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে ২৭তম অবস্থানে, চীন ৮২তম, মালয়েশিয়া ৩১তম, ভিয়েতনাম ৫৬তম অবস্থানে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক অঞ্চলে বিদ্যুত্ নিরবচ্ছিন্ন ও সহজলভ্য না হওয়ায় শিল্পে ও বসতবাড়িতে ডিজেল চালিত জেনারেটর ব্যবহার করা হচ্ছে। রান্নার জন্য জ্বালানির পর্যাপ্ত না হওয়ায় লাকড়ি দিয়ে জ্বালানি চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। ফলে এসব অঞ্চলে কার্বন নি:সরণ বেশি। আফ্রিকার দেশগুলোর সাধারণ মানুষেরা বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশি খরচে গৃহস্থলীতে বিদ্যুত্ ব্যবহার করছে। এসব অঞ্চলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌর চালিত, বায়ু চালিত এবং জল বিদ্যুতে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।