হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছেন টঙ্গীর টাম্পাকো ফয়েলস কারখানার চেয়ারম্যান সাবেক এমপি সৈয়দ মকবুল হোসেন, তার স্ত্রী, পুত্র ও মেয়েসহ আট কর্মকর্তা।
সোমবার বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জাফর আহমদের ডিভিশন বেঞ্চে আত্মসমর্পণ করে তারা জামিন চান। পরে জামিন আবেদনের ওপর আংশিক শুনানি শেষে মঙ্গলবার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট।
গত ১০ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের টঙ্গীর বিসিক শিল্পনগরী এলাকার টাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় অর্ধশত শ্রমিক মারা যায়। আহত হয় অনেকে। দুর্ঘটনার পর ১২ সেপ্টেম্বর টঙ্গী থানায় হত্যা ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এই দুটি মামলায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানসহ ৮ জন হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করেন।
তারা হলেন- মকবুল হোসেনের স্ত্রী সাজেদা পারভীন হোসেন, পুত্র টাম্পাকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ তানভীর আহমেদ ও মেয়ে আবিদা হোসেন, মহা-ব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান, ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মনির হোসেন, ডিএমডি সাফি-উস-সামি আলমগীর ও ব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও আইন) আবু হানিফ।
তাদের পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানিতে অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার বলেন, ইতোপূর্বে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছিল। যার মধ্যে ছিল- কারাখানা মেরামত, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা এবং হতাহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি। এছাড়া এ পর্যন্ত কত টাকা এই তিন খাতে ব্যয় হয়েছে তা প্রতিবেদন আকারে আদালতকে অবহিত করতে মালিকপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়। এসব নির্দেশনা যতটুকু সম্ভব আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি। জামিন পেলে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। জামিন মঞ্জুর করা হোক। IMG0
এ পর্যায়ে জামিনের বিরোধিতা করে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ বলেন, মালিকের অবহেলার কারণেই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বহু শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। এর দায় তারা এড়াতে পারেন না। অতএব জামিন আবেদন খারিজ করা হোক। উভয় পক্ষের আংশিক শুনানি শেষে আদালত আজ পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করে দেয়। এ সময় আসামি পক্ষে আইনজীবী এম মাহবুব আলী ও এম আতাউল গণি উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/এমআই