টানা একশ ৩৬ বছর যাবত্ শিক্ষার আলো ছড়ানো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চুয়াডাঙ্গা ভিজে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। দুই হাজার ৩৪১ জন শিক্ষার্থীর নিয়মিত পদচারণায় মুখর এ প্রতিষ্ঠানটির মূল ও প্রধান সমস্যা শিক্ষক স্বল্পতা।
১৮৮০ সালে চুয়াডাঙ্গাকে মহকুমা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রাণী ভিক্টোরিয়া জুবলী উপলক্ষে তার নামানুসারে এই মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। ওই সময়ে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শিক্ষানুরাগী আবুল হোসেন জোয়ার্দার স্কুলটির নামে চুয়াডাঙ্গা মহকুমা শহরে সাত একর জমি দান করেন। রাণী ভিক্টোরিয়া জুবলী ওই জমির উপর পাঠদানের জন্য ১২ কক্ষ বিশিষ্ট একটি দোতলা ভবন নির্মাণ করে দেন। ব্রিটিশ রাণী ভিক্টোরিয়ার নামাঙ্কিত সেই ভবনটি এখনো রয়েছে।
একই সময়ে এই প্রতিষ্ঠান চত্বরে একতলা বিশিষ্ট একটি স্কুল অফিস ও একটি আবাসিক শিক্ষক হোষ্টেলও নির্মাণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য স্কুলটির নামে তত্কালীন মহকুমা প্রশাসকের (বর্তমান জেলা প্রশাসক) অফিস সংলগ্ন এলাকায় খেলার মাঠ হিসেবে ১৬ একর জমি বরাদ্দও চূড়ান্ত হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দীর্ঘ সময়কাল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হলেও চুয়াডাঙ্গা জেলায় উন্নীত হওয়ার পর বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শ্রেণিকক্ষ হিসেবে মোট পাঁচশ আসনের চারতলা একটি, ৩৬০ আসনের তিনতলা একটি ও পাঁচশ আসনের দ্বিতল দুটি ভবন রয়েছে। এছাড়াও বিদ্যালয় চত্বরে রয়েছে অডিটরিয়াম, লাইব্রেরী, প্রধান শিক্ষকের অফিস চেম্বার ও বাসভবন, শিক্ষক কমনরুম, বিদ্যালয় অফিস, মোট ১২৮ আসনের দ্বিতল দুটি ছাত্রাবাস ও দ্বিতল শিক্ষক হোষ্টেল একটি। বিজ্ঞান, ব্যবসায়িক শিক্ষা ও মানবিক বিভাগ সম্পন্ন বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে মোট দুই হাজার তিনশ ৪১ জন শিক্ষার্থী দুই শিফটে পড়ালেখা করছে। ২০০৮ সালে বিদ্যালয়ের ১০৯ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর সকলেই উত্তীর্ণ হয়ে দেশব্যাপী বিদ্যালয়টির মুখ উজ্জ্বল করে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মনি মোহন বিশ্বাস বলেন, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকের পদ আছে ৫২টি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দুইজন সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ মোট ২৯ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। কার্যত অর্ধেকেরও বেশি ঘাটতি শিক্ষক শূন্যতার বোঝা মাথায় নিয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীদেরকে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চালাতে দায়িত্বরত শিক্ষকদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বর্তমান জাতীয় সংসদের হুইপ সোলায়মান হক জোয়ার্দার ছেলুন এমপি বলেন, লেখাপড়াসহ প্রতিষ্ঠানটির অতীত কার্যক্রম খুবই গৌরবোজ্জ্বল এবং অবিস্মরণীয়। অতীতে ফুটবল খেলা ও স্কাউটিংয়ে এই বিদ্যালয়ের সুনাম সমগ্র দেশব্যাপী পরিচিত ছিল। হুইপ মন্তব্য করেন, এই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান শিক্ষার্থীরা লেখাপড়াসহ খেলাধুলা ও স্কাউটিংয়ে অতীত ঐতিহ্য পুনর্জাগরিত করুক এটিই প্রত্যাশা।
ইত্তেফাক/এএন