সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা: অনুমোদন বিলম্বে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

 
যথাযথ সময়ে সরকারের অনুমোদন না পাওয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়েরকৃত তিন মামলা বাতিল ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসব মামলায় সরকারের অনুমোদন পেতে দীর্ঘ তিন বছর সময় লাগার পেছনে কারা দায়ী তা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের ডিভিশন বেঞ্চ রবিবার এই আদেশ দেন। 
 
এছাড়া দীর্ঘদিন পর মামলা তিনটিতে অনুমোদন দেয়ার পরেও আদ্যবধি তা বিচারিক আদালতে না পৌঁছানোর বিষয়টিও তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী দেড় মাসের মধ্যে এ তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নিম্ন আদালতের কার্যক্রম তদারকি কমিটিকেও বলা হয়েছে।
 
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৯ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও ভোলাহাটে আব্দুর রাকিব সুমন ও রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে তিনটি মামলা করে পুলিশ। ২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে নিম্ন আদালত। অভিযোগ গঠনের পর এসব মামলায় সরকারের অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও মামলায় সরকারের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এরপর আসামিরা সরকারের অনুমোদন ব্যাতীত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। আবেদন অভিযোগ গঠন আদেশ ও মামলা বাতিল ও আসামিদের জামিন চাওয়া হয়। ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর হাইকোর্ট সন্ত্রাস বিরোধী আইনে করা মামলা বাতিল ও আসামিদের কেন দেওয়া হবে না এই মর্মে রুল জারি করে। এই রুল বিচারাধীন থাকাবস্থায় গত ১৬ এপ্রিল এই মামলাগুলোর অনুমোদন দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু সরকারের ওই অনুমোদনের নথি বিচারিক আদালতে অদ্যবধি যায়নি। রুলের ওপর আসামি পক্ষে আইনজীবী সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম জহিরুল হক ও সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. শহিদুল ইসলাম খান শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট মামলা তিনটি বাতিল করে উপরোক্ত রায় দেন। একইসঙ্গে সুমন ও রবিউলকে ছয় মাসের জামিন দেয় আদালত। ২০০৯ সাল থেকে সুমন ও রবিউল কারাগারে আছেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
 
ইত্তেফাক/এএম।