জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

যথাযোগ্য মর্যাদায় ৪৫তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে  জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপনের শুভসূচনা হয়। এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে পালন করা হয় এক মিনিট নিরবতা।
 
সন্ধ্যার অনুষ্ঠান শুরু হয় স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে। আলোচনা অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও কলামিস্টসহ বিভিন্ন পেশাজীবী প্রবাসী বাঙালিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
 
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে উঠে আসে জাতির পিতার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে সূদীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, বাঙালির বিজয় অর্জনের ইতিহাস, দেশের ব্যাপক উন্নয়ন এবং রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই দিবসটি উপলক্ষে দেয়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।
 
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সর্বস্তরের প্রবাসী বাঙালিদের সমাগমে মুখরিত এ আলোচনা অনুষ্ঠানের মূখ্য আলোচক ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বীর বিক্রম। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন তাঁর স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, জাতির পিতা অত্যন্ত সুনিপুণভাবে, ধীরে ধীরে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী নেতৃত্বই ছিল বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশে বাঙালি জাতিকে উদ্বুদ্ধ করার মূলমন্ত্র। বাংলাদেশের অসামান্য অর্জনের পিছনে প্রধানমন্ত্রীর সাহসী, দূরদর্শী ও জনমূখী নেতৃত্বের কথা তুলে ধরে তিনি প্রবাসী বাঙালিদের দেশ ও জাতির উন্নয়নে আরও বেশী অবদান রাখার আহ্বান জানান।
 
জ্বালানি উপদেষ্টা নতুন প্রজন্মকে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আরও ব্যাপকভাবে জানতে এবং এরই আলোকে ভবিষত্ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতে উদ্বুদ্ধ করেন।
এর আগে সমবেত সুধীম্ললীর উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ও উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বহুমুখী সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে একটি মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে”। নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান বাংলাদেশকে একটি দৃশ্যমান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ধারাবাহিকভাবে উন্নয়নের বিপ্লব ঘটছে।
 
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আক্তার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, মুক্তিযোদ্ধা ডা.আব্দুল বাতেন, আব্দুল মুকিত চৌধুরী ও খুরশীদ আনোয়ার বাবলু, যুদ্ধাহত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ডা. মাসুদুল হাসান, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, বিশিষ্ট কলামিস্ট বেলাল বেগসহ বিশিষ্ট প্রবাসী বাঙালীগণ।
 
বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ ও জাতির উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিতে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
উন্মুক্ত আলোচনা শেষে জাতির পিতা, জাতীয় চার নেতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী ৩০ লাখ শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং বাংলাদেশের উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করে দোয়া করা হয়।

-