খুলনার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজ উদ্যোগে বাধ্যতামূলকভাবে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে গতকাল সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সম্পর্কে সার্বিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও জানমালের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ সভাপতিত্ব করেন।
সভায় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রচারে মসজিদের ইমামদেরকে বেশি করে সম্পৃক্ত করতে তাদের মানসম্মত ভাতা প্রদানে মসজিদ কমিটিকে দায়িত্বশীল হবার পরামর্শ দেয়া হয়। ইভটিজিং বন্ধে জারিগান, পথনাটকসহ প্রচারমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। বাল্যবিবাহ বন্ধ এবং বাল্যবিবাহের কারণ অনুসন্ধানে ঝুঁকিতে থাকা মেয়েদের জরিপ করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় ছিনতাই রোধে তিনজন আরোহীসহ মোটর সাইকেলের বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান, ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন ও ৩১ ডিসেম্বর বর্ষপূর্তিতে উচ্ছৃঙ্খলতার বহিঃপ্রকাশ রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্তক অবস্থান এবং মহাসড়কে স্পিডব্রেকার সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্তির জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
সভায় উন্নয়নমূলক বিষয়ের আলোচনায় জানানো হয়, খুলনা বিভাগকে ভিক্ষুকমুক্ত করার অংশ হিসাবে বিভাগে প্রায় ২৩ হাজার ভিক্ষুকের তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলায় ৫৪৩ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসিত করা হয়েছে এবং ১০ হাজার ৯০৮ জনকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কর্মকর্তাদের এক দিনের বেতন হিসেবে ৩৫ লাখ জমা পড়েছে।
সভায় বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ জানান, সরকারি কাজে গতিশীলতা আনতে ইনোভেশন প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন নতুন আইডিয়া আহ্বান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ১হাজার ১২৮টি প্রকল্প পাওয়া গেছে, যা অন্যান্য বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলমান ৮৮০টি প্রকল্পের মাধ্যমে সাশ্রয় হয়েছে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
সভায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, খুলনা বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
ইত্তেফাক/আরএ