ঢাকা থেকে পায়রা সমুদ্র বন্দর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে যার সম্ভাব্য ব্যয় হবে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। এ রেললাইন নির্মাণের লক্ষ্যে মঙ্গলবার রাজধানীর রেলভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও ডিপি রেল লিমিটেড, ইউকে-এর মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
ঢাকা থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত মোট ২৪০ কিলোমিটার রেল লাইন নির্মাণ করবে ব্রিটিশ কোম্পানি ডিপি রেল লিমিটেড। এ সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কোম্পানি নকশা প্রণয়ন, অর্থায়ন, লাইন নির্মাণ ও অপারেশনের দায়িত্ব পালন করবে। নির্মাণের কাজে সহযোগিতা করবে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন।
স্মারকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) কাজী মো. রফিকুল আলম এবং ডিপি রেল লিমিটেড ইউকে-এর পক্ষে প্রধান নির্বাহী ইয়ান এস ডার্বিশায়ার। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, দক্ষিণ অঞ্চলের জন্য এ রেলাইনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বরিশাল বিভাগ প্রথমবারের মত রেল সংযোগের আওতায় আসবে। তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে মালামাল পরিবহনের মাধ্যমে এ লাইনটি দেশের রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এটি রেলওয়ে খাতের জন্য সবচেয়ে বড় প্রকল্প বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী এ সময় বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে খুবই শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে দু’দেশের একই লক্ষ্য। বিভিন্ন ক্ষেত্রেই আমাদের পারস্পরিক স্বার্থ এক ও অভিন্ন। এ দেশের উন্নয়ন অভাবনীয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ রেললাইন নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সাল নাগাদ এ রেললাইন নির্মাণের কাজ শেষ হলে কন্টেইনার ট্রেন চালানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ২০ লাখ ইউনিট কন্টেইনার চালানো সম্ভব হবে।
সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ হাইকমিশনার এ্যালিসন ব্লেক, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফিরোজ সালাহ উদ্দিন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন এবং ডিপি রেল লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ একথা বলা হয়।
ইত্তেফাক/এসএসএ