সাহস না থাকলে বিচারাঙ্গন ছেড়ে চলে যান: বিচারপতি মাহমুদুল আমীন

সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমীন চৌধুরী বলেছেন, পুলিশ রিমান্ড ভালোবাসার জন্য নয়। আসামির ওপর থার্ড ডিগ্রি পদ্ধতি প্রয়োগের জন্যই রিমান্ডে নেয়া হয়। সেখানে নির্যাতন করে আসামির কাছ থেকে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য আদায় করাই রিমান্ড।
 
তিনি বলেন, হাইকোর্টের একটি রায় আছে জেল গেটে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিলো। জেল গেটে রিমান্ড নিয়ে নির্যাতন করলে সেটা প্রকাশ পেয়ে যাবে। এ জন্য সেখানে নিয়ে কি লাভ? তাই কোনো আসামির পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুরের আগেই নিম্ন আদালতের বিচারকদের কেস ডায়েরি পর্যালোচনা করতে হবে। জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাহমুদুল আমীন চৌধুরী এসব কথা বলেন।
 
তিনি বলেন, একটা জামিন পেলে সঙ্গে সঙ্গেই উপর আদালতে স্থগিত হয়ে যায়। এটা কেন? জামিন পাওয়া তার অধিকার। কারণ একটা মানুষের সাংবিধানিক স্বাধীনতা আছে। পুলিশ বা অন্য কারও কথায় সেই স্বাধীনতা খর্ব করা যায় না। এই জামিন যদি আদালত দিয়ে থাকে, ঐ আদালতের এখতিয়ার ছিল কী ছিল না, সেটা দেখতে হবে। আদালতের যদি এখতিয়ার থাকে জামিন দিতে পারেন। কিন্তু স্টে করার তো কোন আইন বা বিধান নেই। আমরা হুট করে স্টে করে দিই। কয়েকমাস পরে ঐ আপিল আদালতই বলে জামিন দেয়াটা ঠিক ছিল, তাহলে যে জামিনপ্রাপ্ত আসামি কয়েকমাসের দুর্ভোগ পোহালো এর জন্য কে দায়ী থাকবে? আপনারা এটা খুব বেশি ভাবে খেয়াল করবেন।
 
মাহমুদুল আমীন চৌধুরী বলেন, বিচার কাজ পরিচালনায় বিচারকদের সাহস থাকতে হবে। যাদের সাহস নেই তারা বিচারাঙ্গন ছেড়ে চলে যান। কারণ আইন অন্ধ হতে পারে কিন্তু বিচারকরা অন্ধ নন। পুলিশ আবেদন করলেই রিমান্ড মঞ্জুর করার এই অন্যায়টা রোধে বিচারকদের সাহস থাকতে হবে। আর সেটি বিচার কাজে প্রয়োগ করতে হবে।
 
তিনি বলেন, নিম্ন আদালতের বিচারকদের সুরক্ষা প্রদানের কাজটি সুপ্রিম কোর্ট ও প্রধান বিচারপতিকেই নিতে হবে। যাতে তারা কোন চাপ বা ভয়ে কোন ধরনের আদেশ না দেয়। এটা করা গেলেই বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকবে। কাউকে খুশি বা নারাজ করার জন্য নয় আইন অনুযায়ী বিচার করতে হবে এটাই মূল কথা। নিন্ম আদালতের বিচারকদের বদলি প্রসঙ্গে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি বলেন, সরকার কোন বিচারককে বদলির জন্য সুপারিশ পাঠালে তা অনুমোদন করা যাবে না। রাজধানীসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন রয়েছে যেখানে বিচারকদের তিন বছরের আগে বদলি করা ঠিক নয়। অনেক সময় প্রশাসনিক কারনে বদলি হতে পারে। রায় বিরুদ্ধে দিয়েছে এ কারনে বদলির সুপারিশ অনুমোদন করা যাবে না। এই অন্যায় বদলির বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। এটা না করতে পারলে বিচার বিভাগ থাকবে না।
 
ইত্তেফাক/এএম।