ইন্টারনেটের কল্যাণে মানুষ এখন বেশি ভাবে ফ্যাশন নিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন ফ্যাশন পেজ খুলে দিয়েছে চিন্তার সীমানা। নতুন প্রজন্মের কাছে এখন জনপ্রিয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডের ট্রেন্ড। কেননা, ঝুটঝামেলা এড়িয়ে টেইলারিং জামা-কাপড়ের পরিবর্তে রেডিমেড ব্র্যান্ড এখন ফ্যাশনে ইন। সমকালীন ধারাবাহিকতায় লাইফস্টাইল স্টোরগুলো ঐতিহ্যের সঙ্গে আভিজাত্যের মিশেলে তৈরি করেছে তেমনি সব ফেস্টিভ বা স্ট্রিট ক্যাজুয়াল ফ্যাশন আউটফিট।
চলছে শীত। পোশাকশৈলী তখনই স্বয়ংসম্পূর্ণ, যদি তাতে সমকালীন রুচির প্রকাশ ঘটে। স্টাইল বা ডিজাইন হতে হবে চলতি সময়ের জনপ্রিয় অথচ ভিন্নধর্মী। অন্যদিকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ফ্যাশনের আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেই সবাই এখন চিন্তা করে। এ কারণে, বিশ্বজুড়ে যে ফ্যাশন চালু হয়ে যায়, তা-ই সব দেশের ট্রেন্ডে রূপ নেয়। মূল চেহারা ঠিক রেখে দেশে দেশে আসে এর বাহ্যিক আদল। দেশীয় ডিজাইনের মিশ্রণও ঘটে এতে। কোনো ফ্যাশন টিকে থাকে যুগ যুগ ধরে। কেবল পার্থক্য আসে সামান্য কিছু কাটছাঁট অথবা বুননে। পরিবর্তন হতে পারে মূল কাঁচামালের। শতভাগ সুতির বদলে যুক্ত হতে পারে পলিয়েস্টার, সিল্ক, উল ইত্যাদি। পশ্চিমা থেকে আসা স্টাইলই এ দেশের শীতপোশাকে বেশি দেখা যায়।
জ্যাকেট কুল
গত বছরের সঙ্গে এবার শীতের পোশাকের ট্রেন্ডে মূল পার্থক্য হলো রঙের ব্যবহারে। উজ্জ্বল রং, কালার ব্লকিং, চড়া প্রিন্ট এসব এ বছর তেমন চলছে না। রঙের বেলায় বেশ সংযত ভাবটাই এ বছর দেখা যাচ্ছে। তবে শীতের সময়টায় রঙের বৈচিত্র্যে মেতে উঠতে বাধা নেই। কারণ সেই লেয়ারিং। তাই সান্ধ্যশীতের বা গভীর রাতকালীন পার্টিগুলোয় নিছক গল্প-আড্ডার মেজাজে থাকতে হলে জ্যাকেট আর স্কিনি কার্ডুরয় প্যান্টসের জুড়ি নেই!
ইন্দো ফিউশন
পার্টি, বিয়েবাড়ি ইত্যাদির ধুম চলছে। শাড়ি-লেহেঙ্গা তো অনেক হলো। ফিউশন ট্রাই করুন এবার। পার্টিতে ‘কারেক্ট ড্রেস কোড’ মেনে চলতে পারলে হ্যাপা অনেকটাই কমে যায়। সেক্ষেত্রে প্রথমেই আসে রঙের প্রসঙ্গ। ডার্ক ও সলিড রংগুলো ফরমাল ধাঁচের ইভনিং পার্টিওয়্যারের সঙ্গে বেশি জুতসই। অন্যদিকে প্রিন্টেড পোশাক যথেষ্ট ক্যাজুয়াল। বাদামি ও ধূসরের মতো নিউট্রাল শেডের সঙ্গে কালোও পার্টির পোশাকের জন্য অনেক ভার্সেটাইল।
কোটেই মাস্তি
ব্লেক লাইভলির এই জিওমেট্রিক প্যাটার্ন ক্লোক যেকোনো কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের দিনে চোখ টানতে বাধ্য। মুভি ডেট থাকলে আরামসে পরে ফেলা যায়। বেশ একটা লেপ-কম্বল আমেজ আসবে! এছাড়া ব্লেক টিম-আপ করা যায় মিনি স্কার্ট এবং ক্যামেল বুটসের সঙ্গে। জিন্সও পরে নিতে পারেন এর সঙ্গে।
মেটালে ফেম ফাটালে
মেটালিক ছাড়া উইন্টার পার্টি কোনোভাবেই জমে না। গোল্ড, সিলভার বা যেকোনো জুয়েল টোনড রঙে পার্টি নাইটগুলো জমে উঠতে পারে। মেটালিক ফয়েল কোট, যেমন—তেমন লুক-এও টুইস্ট আনতে পারে। তবে খেয়াল রাখবেন পুরো লুকটা সিক্যুইনড না হয়ে যায়।
অফিস স্মার্ট
অফিস পার্টির জন্য বেছে নিতে পারেন শার্ট কিংবা নিটেড সোয়েটার ড্রেস। পুরোটাই নির্ভর করছে পার্টির ধরন এবং অফিসের আবহাওয়ার উপর। যাই হোক, ডেনিম শার্ট ড্রেসে টুইস্ট আনতে শাইন লেদার বেল্ট এবং স্টিলেটোজ পরে নিন। ট্রেঞ্চ কোট বা টুইড জ্যাকেট সঙ্গে নিতে ভুলবেন না কিন্তু!
ফ্যান্টাসি ফ্যাশন
রোমান্টিক ডেটে লং গাউনের বদলি কিছু হতে পারে না এমনিতে। ফ্লোর লেংথ গাউনে অ্যানিম্যাল প্রিন্ট একটা অন্য লেভেলে পৌঁছে দেয়! এবার শীতে কালোর মায়া কাটিয়ে বরং একটু সাহসী হোন! রোমান্টিক সাজতে বেছে নিন ফ্যান্টাসি ফ্যাশন!
মডেল: নাহিদ ও সাফিরি
পোশাক: জেন্টল পার্ক
স্টাইলিং: শাহাদাত্ বাবু
ছবি: রিয়াদ আশরাফ