মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিতেই নাঈমকে হত্যা

মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিতেই বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে কলেজছাত্র নাঈমুল ইসলাম নাঈমকে জবাই করে হত্যা করে আগুনে পুড়িয়ে ঝলসে দেওয়া হয়েছে। বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরীর আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই তথ্য জানিয়েছেন সারিয়াকান্দি পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অনন্ত শ্রাবণ বিশু।

অনন্ত আদালতে জানান, নাঈমকে তার বাড়িতে নিয়ে মদ ও ঘুমের ওষুধ খেয়ে অচেতন করা হয়। তারপর তার এক সহযোগীকে নিয়ে চাকু দিয়ে পেটে পাঁচটি ছুরিকাঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতেই নাঈমের গলা কেটে ফেলে দেয়। এরপর লাশ ৫০ গজ দূরে নিয়ে কাগজ ও পলিথিন দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ঝলসে দেয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদালতে এই স্বীকারোক্তি দেয় শ্রাবণ।

জবানবন্দি দেওয়ার পরে বিশু ও তার সঙ্গে গ্রেফতার চার বন্ধুকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বগুড়ার গাবতলি ও সারিয়াকান্দি সার্কেলের সিনিয়র এএসপি তাপস কুমার পাল এ তথ্য জানিয়েছেন। 

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খয়ের উদ্দিন জানান, বিশুর ওই সহযোগীকে খোঁজা হচ্ছে। গ্রেফতার অপর চারজনকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতার মনিরুজ্জামান মনির ও আতিকুর রহমান নিহত নাঈম ইসলামের স্কুলজীবনের বন্ধু। ওই দুজনের মাধ্যমে নাঈমের সঙ্গে অনন্ত শ্রাবণ বিশু, সিহাব বাবু, অন্তর ও সাব্বিরের পরিচয় হয়। বিশু ও তার এক সহযোগী নাঈম ইসলামের অ্যাপাচি মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। 

গত ১৫ নভেম্বর সারিয়াকান্দির কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধ এলাকায় বেড়ানোর নামে বন্ধুরা নাঈমকে ডেকে নেয়। এদের মধ্যে সাব্বিরের সঙ্গে গার্লফ্রেন্ড ছিল। নাঈমকে সারিয়াকান্দি বাজার এলাকায় অনন্ত শ্রাবণ বিশুর ভাড়া বাসায় নেওয়া হয়। সেখানেই হত্যা করা হয়। এরপর পুলিশ বিশুসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ বিশুর বাড়ি থেকে রক্তমাখা ছুরি, নাঈমের শিক্ষা আইডি, মানিব্যাগ, জুতা ও রক্তমাখা কম্বল, বালিশ এবং অন্যান্য আলামত উদ্ধার করে।

পলাতক সাব্বির বাদে গ্রেফতার পাঁচজনকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বৃহস্পতিবার বিকালে শুধু বিশু আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে পাঁচজনকেই জেল হাজতে পাঠানো হয়। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ