ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মান্ধদের হাতে নিহত লেখক, প্রকাশক ও ব্লগারদের স্মরণে ‘মুক্তচিন্তা স্মৃতিস্তম্ভ’ এর উদ্ধোধন করা হয়েছে। বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিত রায়সহ নিহত অন্যান্য লেখক, প্রকাশক ব্লগারের স্মরণে এই স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে আগামী ২৬ ফেব্রয়ারি। স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করবেন ভাস্কর রাশা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসির রাজু ভাস্কর্য সংলগ্ন ব্লগার অভিজিত রায়ের হত্যাকাণ্ডের স্থানে ‘মুক্তচিন্তা স্মৃতিস্তম্ভ’ এর উদ্ধোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমির বইমেলা থেকে ফেরার পথে লেখক অভিজিত রায় হত্যাকাণ্ডের স্বীকার হন। স্মৃতিস্তম্ভের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিজিত রায়ের বাবা ও ঢাবি পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. অজয় রায়, অর্থনীতিবিদ আবুল বারাকাত, ঢাবি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, ভাস্কর রাশা, প্রকাশক রবিন আহসানসহ গণজাগরণ মঞ্চের নেতা কর্মীবৃন্দ।
অভিজিত রায়ের বাবা অধ্যাপক অজয় রায় বলেন, আমি নিজে একজন মুক্ত চিন্তার মানুষ। গত পঁচিশ বছর ধরে মুক্তমনা মানুষদেরকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে। যাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের স্মৃতিকে জাগরিত রাখার জন্য স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। ঢাবি উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক এই জায়গাটি চিহ্নিত করেছেন। ভাস্কর্যটি ভাস্কর রাশা নির্মাণ করবে। তিনি শুধুমাত্র একজন ভাস্কর নয়, একজন মুক্তিযোদ্ধা। কাজেই আমরা আশা করবো তার হাতে এই ভাস্কর্যটি মুক্তচিন্তার মানুষদের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, অভিজিত রায়কে যারা হত্যা করেছে, কেন হত্যা করেছে তা আমরা জানি। অভিজিত রায়ের হত্যাকান্ডের স্থানে আসলে আমরা বেদনাহত হই, ক্ষুব্ধ হই। এই ‘অভিজিত চত্বরে’ই তার স্মৃতি এবং মতপ্রকাশের অধিকারের সাক্ষ্য হয়ে থাকবে এই মুক্তচিন্তার স্তম্ভের ভাস্কর্য। এসময় তিনি বলেন, ভাস্তর্যটি সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সকল মত প্রকাশের মানুষের প্রতীক হয়ে থাকবে।
ভাস্কর্য নির্মাণ সম্পর্কে ভাস্কর রাশা বলেন, দ্বিতীয় প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধে নিহত লেখকদের স্মরণে আমার মেধা মনন দিয়ে মুক্তচিন্তা স্তম্ভটি নির্মাণ করবো। ভাস্কর্যটি ধাতবের তৈরি খোলা বই হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই বইয়ের পাতায় ধারাবাহিক ভাবে নিহত বারোজন লেখক, প্রকাশক ব্লগারেরর আবক্ষ মূর্তি হবে।
ইত্তেফাক/এএম।