শিশুর শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ওজনের ব্যাগ বহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পেয়েছে।
রবিবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে এ রায় প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত রায়টি ৩৬ পৃষ্ঠার। রায়টি লিখেছেন হাইকোর্টের বিচারক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। একমত পোষণ করেছেন বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস।
গত ৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভারি ব্যাগ বহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে বলা হয়, শিশু শিক্ষার্থীদের ব্যাগের ওজন কি পরিমাণের হবে সে বিষয়ে সুনিদ্দিষ্ট কোন আইন নেই। দেখা যাচ্ছে নানা ধরনের সিলেবাসের কারণে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে ভারি ব্যাগ বহন করতে হচ্ছে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় এজন্য সরকারকে আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেয়া হলো। রায়ের কপি পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে সরকারকে এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন করতে হবে।
রায়ে ১০ শতাংশের বেশি ওজন নয় এমন স্কুল ব্যাগ শিশুদের বহনের বিষয়টি নজরদারি মধ্যে রাখার বিষয়ে এক মাসের মধ্যে পরিপত্র জারি করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোন স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি শিশুদের এই ওজনের বেশি স্কুল ব্যাগ বহন করায় তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং শিশুর পিতা-মাতার সচেতনতা সম্বলিত নির্দেশনার পরিপত্র জারি করতে বলা হয়। রায়ে বলা হয়, শিশুরা জাতির ভবিষ্যত। তারা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী না হলে তার মাশুল পুরো জাতিকে গুনতে হবে।
প্রাইমারি স্কুলের শিশুদের ভারি স্কুল ব্যাগ বহন না করার বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে ২০১৫ সালের ৯ আগস্ট হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী এসএম মাসুদ হোসেন দোলন, মো. জিয়াউল হক ও মো. আনোয়ারুল করিম।
ইত্তেফাক/ইউবি/আরএ