নবজাতককে পলিথিনে মুড়িয়ে ইটচাপা দিয়ে হাসপাতালে মা

মোর্শেদা ৬ মাসের গর্ভবতী ছিলেন। স্বামী আগের রাতে তাকে চারটি ট্যাবলেট খেতে দিয়েছিলেন। ট্যাবলেট গুলো খাবার পর থেকে শুরু হয় রক্তক্ষরণ। সকাল বেলা সকলের অজান্তে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসনে মোর্শেদা। হাসপাতালে আসার পথে রাস্তার পাশে জন্ম দেন পুত্র সন্তান। অবশেষে নবজাতককে পলিথিনে মুড়িয়ে ইটচাপা দিয়ে নর্দমার পাশে লুকিয়ে রাখেন। এখন প্রাণে বাঁচতে হাসপাতালের বেডে চিকিৎসা নিচ্ছেন মা মোর্শেদা খাতুন (৩৫)। দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়িতে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। মোর্শেদা খাতুন উপজেলার পশ্চিম রামচন্দ্রপুর গ্রামের মো. মামুনের স্ত্রী।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, সকাল সোয়া ৯টায় মোর্শেদা খাতুনকে রক্তক্ষরণ অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের সামনে দেখা যায়। তাকে দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা প্রদান শুরু করেন। অনেক চেষ্টার পর তারা মোর্শেদার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে সক্ষম হন। এর কিছুক্ষণ পরে এক পরিচ্ছন্ন কর্মী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরের পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের সামনের নর্দমার পাশে পলিথিন ব্যাগের ভেতর রক্তমাখা কাপড়ে মোড়ানো ইটচাপায় লুকানো অবস্থায় ৬ মাসের একটি শিশুকে দেখতে পান। বিষয়টি কর্তব্যরত চিকিৎসককে জানালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ ওই শিশুকে উদ্ধার করে। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোর্শেদা খাতুন বলেন, তার স্বামী মো. মামুন মিয়া তার পেটের ৬ মাসের সন্তানকে নষ্ট করার জন্য চারটি ট্যাবলেট গত বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) রাতে খেতে দেন। রাতে ওই ট্যাবলেট গুলো খাওয়ার পর থেকে তার রক্ত ক্ষরণ শুরু হয়। সকালে হাসপাতালে এসে গোপনে নর্দমার পাশে একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেন। বিষয়টি গোপন রাখতে তিনি সন্তানকে পলিথিনের ব্যাগে ভরে কাপড়ে মুড়িয়ে নর্দমার পাশে ইট চাপা দিয়ে রেখে আসেন। এ সময় অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণ হলে তিনি জরুরি বিভাগের সামনে গিয়ে বসে পড়েন। ডাক্তার ও নার্সরা তাকে দেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সঞ্জয় কুমার গুপ্ত বলেন, বিষয়টি জানার পর মোর্শেদার রক্তক্ষরণ বন্ধসহ সার্বিকভাবে সুস্থ করতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে মোর্শেদার শিশুটি জন্মের পর মারা গেছে নাকি মৃত অবস্থায় জন্ম নিয়েছে সে বিষয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না। মোর্শেদাকে চিকিৎসা দেওয়া হলেও তার স্বামীর মো. মামুন মিয়া মোর্শেদার খোঁজ নিতে আসেননি। তবে ৬ মাসের শিশুকে এভাবে জন্ম দেওয়া এবং মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া প্রচলিত আইনে অপরাধ। 

আরো পড়ুন: আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেন হিগুয়েন

 থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাসিম হাবিব বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। তবে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/অনি