রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাজ্যের বিশেষ ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া ও সেদেশে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারকে বিশেষ ভূমিকা নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

তিনি বলেন, আমরা আশা করি যুক্তরাজ্য জাতিসংঘে অব্যাহত কূটনৈতিক নেতৃত্ব পালন করবে যাতে রোহিঙ্গারা তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ পরিবেশে ফিরে যেতে পারে।

লন্ডনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ৪৮তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডন দিবসটি উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও)-এ ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য, কূটনৈতিক, ব্রিটিশ এবং বাংলাদেশি-ব্রিটিশ কমিউনিটির জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম অনুষ্ঠানে অতিথিদের সাদর অভ্যর্থনা জানান এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এতে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী আর্ল হোয়ে, কমনওয়েলথের সেক্রেটারি জেনারেল পেট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড এবং আইএমও-এর সেক্রেটারি জেনারেল কিটাক লীমসহ হাউজ অব লর্ডসের বেশ কয়েকজন সদস্য এবং ব্যারনেস উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (সমন্বয় ও সংস্কার)-এর সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন, যুক্তরাজ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সুলতান মাহমুদ শরীফ, উপমহাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক এবং বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শমী কায়সার।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যুক্তরাজ্য সরকার, ব্রিটিশ ও বাংলাদেশী-ব্রিটিশ জনগণ এবং গণমাধ্যমকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সমর্থন ও সহযোগিতা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি তাদের এ সমর্থন রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন শেষ না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত রাখার আহবান জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র হয়ে কানাডা যাওয়ার পথে ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের জন্য লন্ডনে অবস্থান করেন। এ স্বল্প সময়ে তিনি বেশ কয়েকজন সিনিয়র ব্রিটিশ এমপির সঙ্গে সাক্ষাত এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া তিনি হাউজ অব কমন্সে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

দ্বিতীয় বারের মত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই ছিল শাহরিয়ার আলমের প্রথম লন্ডন সফর। এ সব সাক্ষাত ও আলোচনায় শাহরিয়ার আলম যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের সুদীর্ঘ সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা আশা করি আগামী বছর দুই দেশ এক সঙ্গে মিলে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের  ৫০ বছর পূর্তি ঢাকা ও লন্ডনে উদযাপন করবো। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার এডওয়ার্ড হীথ ও ব্যারন হ্যারল্ড উইলসন-এর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও বিশেষভাবে উদযাপন করা হবে।

স্বাগত বক্তব্যে সাইদা মুনা তাসনীম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অব্যাহত গতিতে এগিয়ে চলেছে। আমরা আশা করছি তার নেতৃত্বে ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ অনুযায়ী বাংলাদেশ উচ্চ প্রবৃত্তি অর্জনের মাধ্যমে একটি উন্নত, প্রগতিশীল ও ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের মধ্যে সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ ও বেগবান হয়েছে। আগামী বছর যুক্তরাজ্যে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপনে বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডন যুক্তরাজ্য সরকার এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ