জীববিজ্ঞান প্রথমপত্র
মোহাম্মদ আক্তার উজ জামান, প্রভাষক
রুপনগর মডেল স্কুল ও কলেজ
মিরপুর ঢাকা।
ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা
প্রশ্ন ঃ ক. জনুক্রম কাজে বলে?
প্রশ ্নঃ খ. সারসিনেট ভার্নেশন বলতে কী বুঝায়?
প্রশ্ন ঃ গ. p থ্যালাসের প্রস্থচ্ছেদের বর্ণনা দাও।
প্রশ্ন ঃ ঘ. Q উদ্ভিদের যৌন জনন অযৌন জননের উপর নিউরশীল বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ ক. কোনো জীবের জীবনচক্রে গ্যামেটোফাইটিক দশা ও স্পোরোফাইটিক দশার পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে জনুক্রম বলে।
উত্তর ঃ খ. ফার্নের পাতা চিবসবুজ ও পক্ষল যৌগিক। ফার্নের পাতাকে ফ্রন্ড বলে। কচি অবস্থায় পাতাগুলো কুণ্ডলিত অবস্থায় থাকে। একে সারসিনেট ভার্নেশন বলে। আর কুণ্ডলিত কচি পাতাকে ক্রোজিয়ার বলে।
উত্তরঃ গ. p হলো Riccia থ্যালাস। প্রস্থচ্ছেদে Riccia থ্যালাস দুটি পৃথক অঞ্চলে বিভক্ত। যথাঃ (i) ফটোসিনথেটিক বা আত্তীকরণ অঞ্চল এবং (ii) সঞ্চয়ী অঞ্চল। ফটোসিনথেটিক বা আত্তীকরণ অঞ্চলঃ থ্যালাসের পৃষ্ঠদেশে ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত খাড়া কোষের সারি নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত এ সারিগুলোকে আত্তীকরণ সূত্র বলে। এসব আত্তীকরণ সূত্রের মধ্যবর্তী সরু ও লম্বা নালীর ন্যায় বায়ুপূর্ণ স্থানকে বায়ু প্রকোষ্ঠ বলে। প্রতিটি বায়ু প্রকোষ্ঠ বায়ুরন্ধ্রের মাধ্যমে বাইরের সাথে উন্মুক্ত থাকে। আত্তীকরণ সূত্রের বাইরের কোষগুলো কিছুটা বড় ও ক্লোরোপ্লাস্টবিহীন থাকে। বর্ণহীন ও কোষগুলো থ্যালাসের উপরিভাবে একটি অসম্পূর্ণ ঊর্ধ্বত্বক গঠন করে।
(ii) সঞ্চয়ী অঞ্চলঃ থ্যালাসের নিম্নাংশ অর্থাত্ ফটোসিনথেটিক অঞ্চলের নিচে এ অঞ্চল অবস্থিত। এ অঞ্চলটি বর্ণহীন প্যারেনকাইমা কোচে গঠিত এবং সাধারণত আন্তঃ কোষীয় ফাক বিবর্জিত। এ থেকে এককোষী রাইজয়েড ও বহুকোষী স্কেল নির্গত হয়।
উত্তরঃ ঘ. Q উদ্ভিদটি ptenis উদ্ভিদে স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে অযৌন জনন সম্পন্ন হয়। ptenis উদ্ভিদে পরিণত অবস্থা প্রাপ্ত হলে এর পিনার নিম্নতলে দু কিনারা বরাবর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্পোরাঞ্জিয়া উত্পন্ন হয়। স্পোরাঞ্জিয়ামের অভ্যন্তরে স্পোর নামক অযৌন জনন কোষ উত্পন্ন হয়। স্পোরাঞ্জিয়ামগুলো গুচ্ছাকারে অবস্থান করে এবং এই গুচ্ছকে সোরাস বলে। পরিণত স্পোরাঞ্জিয়াম একটি বৃন্ত এবং একটি উপবৃত্তাকার ক্যাপসিউল অংশ নিয়ে গঠিত। ক্যাপসিউলের ভিতরে স্পোরোজোনাস টিস্যু হতে স্পোর মাতৃকোষ উত্পন্ন হয়। মায়োসিস বিভাজনের ফলে স্পোর মাতৃকোষ হতে হ্যাপ্লয়েবর ( n) স্পোর উত্পন্ন হয়। পরবর্তীতে স্পোরাঞ্জিয়াম হতে স্পোবের বিস্তার ঘটে এবং বাইরে ছড়িয়ে পড়ে।
স্পোর হলো গ্যামেটোফাইটের প্রথম কোষ। হ্যাপ্লয়েড স্পোর অনুকূল পরিবেশে কোন আর্দ্র বস্তুর সংস্পর্শে আসলে অংকুরিত হয় এবং ক্রমাগত মাইটোটিক বিভাজনের ফলে হূিপন্ডাকার সবুজ অঙ্গের গ্যামেটোফাইট উত্পন্ন করে যাকে প্রোথ্যালাস বলে। প্রোথ্যালাসের উপরের দিকে গভীর খাঁজ আছে। একে অগ্রস্থ খাজ বলে। এর নিম্নপৃষ্ঠের নিম্নাংশ হতে অনেক রাইজয়েড উত্পন্ন হয়। প্রোথ্যালাসের অংকীরতলে খাঁজের কাছে স্ত্রীজননাঙ্গ বা আর্কিগোনিয়াম এবং রাইজয়েডের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় পুংজননাঙ্গ বা অ্যান্থেরিডিয়াম উত্পন্ন হয়। আর্কিগোনিয়ামের অভ্যন্থরে ডিম্বানু এবং অ্যান্থেরিডিয়ামের ভিতরে শুক্রাণু উত্পন্ন হয়।
শিশিরবিন্দু বা বৃষ্টির পানির সাহায্রে শুক্রানুসমৃহ আর্কিগোনিয়ামে পরিবাহিত হয় এবং শুক্রান্তু আর্কিগোনিয়ামের গ্রীবা নালী দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। একটি শুক্রানু ডিম্বানুর সাথে মিলিত হয়ে নিষেক ক্রিয়া সম্পন্ন করে। নিষেক ক্রিয়ার ফলে উস্পোর উত্পন্ন হয়। উস্পোর পরবর্তীতে অংকুরিত হয় এবং ক্রমাগত মাইটোসিস প্রক্রিয়ার বিভাজিত হয়ে নতুন স্বভোজী ptenis উদ্ভিদ সৃষ্টি করে। শুক্রাণুু ও ডিম্বাণুুর মিলনের ফলে যে জনন সম্পন্ন হয় তাকে যৌন জনন বলে। দেখা যাচ্ছে যে, অযৌন জনন প্রক্রিয়ায় স্পোর সৃষ্টি না হলে প্রোথ্যালাস উত্পন্ন হতো না। আর প্রোথ্যালাস সৃষ্টি না হলে আর্কিগোনিয়াম ও অ্যান্থেরিডিয়াম উত্পন্ন হতো না। ফলে ডিম্বানু ও শুক্রানাু সৃষ্টি না হওয়ার যৌন জনন সম্বব হতো না। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয় যে, Q (ptenis)উদ্ভিদের যৌন জনন অযৌন জননের উপর নির্ভরশীল।