মির্জাপুরে সরকারি খাল-জমি ভরাটের অভিযোগ

মির্জাপুরে সরকারি খাল ও জমি ভরাটের ফলে আবাদি জমি এখন জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে। আর এতে চরম বিপাকে পড়েছেন ২ হাজার কৃষক।

 
উপজেলার কদিমধল্যা, বানিয়ারা, জামুর্কি, ধেরুয়া, কোদালিয়া, সোহাগপাড়া, গোড়াই, সৈয়দপুর ও ক্যাডেট এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে সরকারি খাল  এবং আবাদি জমি দখল করে নাসির গ্রুপ, এটিএন গ্রুপ, সাদিয়া টেক্সটাইল মিলসসহ বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান করছে একটি প্রভাবশালী মহল। ফলে কদিমধল্যা, গোড়ান, বানিয়ারা, সাটিয়াচড়া, দেওভোগ, বলুটিয়া, শুভল্যা, তেতুলিয়া ও কাটোরা, দেওহাটা, ধেরুয়া, কোদালিয়া এবং গোড়াই গ্রামসহ আশপাশের ১০-১৫টি গ্রামের ৫ হাজার হেক্টর তিন ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
 
উপজেলার জামুর্কি, নাটিয়াপাড়া, কদিমধল্যা ও বানিয়ারা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে গত দুই থেকে তিন বছর ধরে সাদিয়া টেক্সটাইল মিলস্, এটিএন গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজ চলছে। এলাকার কিছু অসাধু চক্রের সঙ্গে যোগসাজস করে একটি লাঠিয়াল বাহিনী তৈরি করেছেন এসব শিল্পের মালিকরা। প্রতিষ্ঠান শুরুর প্রথম দিকে খালের উপর ছোট্ট পরিসরে একটি কালভার্ট নির্মাণ করে কাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চারলেনের কাজ শুরু হলে কালভার্টটি বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে খালের জায়গা দখল করে সাদিয়া টেক্সটাইল মিলস্, নাসির গ্রুপ ও এটিএন গ্রুপে এ যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। ওই রাস্তা তৈরির ফলে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দেখা দেয় তিন ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা। একই অবস্থা হয়েছে দেওহাটা, কোদালিয়া, সোহাগপাড়া, সৈয়দপুর, গোড়াই এবং ক্যাডেট কলেজ ও রাজাবাড়ি এলাকায়। গোড়ান, বানিয়ারা, সাটিয়াচড়া, গোড়াই, দেওহাটা, কোদালিয়া ও কাটোরা এলাকার মানুষ স্থানীয় প্রশাসনে বার বার অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। এদিকে সাদিয়া টেক্সটাইল মিলের মালিক মো. ওয়াদূত চৌধুরী বলেন, কোনো সরকারি খাল ও জমি দখল করা হয়নি। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চারলেনের কাজ হওয়ার কারণে পানি বের হতে পারছে না। তার মতো আরও কয়েকজন কারখানার মালিক একই কথা বলেন।
 
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত সাদমীন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুমানা ইয়াসমিন বলেন, কোনো মিল কারখানার মালিক যদি সরকারি খাল দখল করে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি জমি ও খাল দখল করতে দেয়া হবে না।

ইত্তেফাক/এএন