মুক্তিযোদ্ধার নাম স্মৃতিফলকে আছে তালিকায় নেই

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় বর্তমানে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা-প্রায় ৫শ। এরমধ্যে ৩৬ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। এই ৩৬ বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মিরপুর উপজেলা পরিষদের আবাসিক এলাকায় স্বাধীনতার পর গড়ে তোলা হয় শহীদ স্মৃতিসৌধ। স্মৃতিসৌধ নির্মানের পর প্রতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর এবং ২৬ মার্চ ওই স্মৃতিসৌধে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ ৩৬ শহীদ মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে। অথচ অনেকেই জানেন না মিরপুর শহীদ স্মৃতিসৌধে নামাঙ্কিত ৩৬ বীর শহীদের মধ্যে ১৫ নং সিরিয়ালের শহীদ মীর আব্দুর রাজ্জাক ও ৩০ নং সিরিয়ালের শহীদ মীর আব্দুর রইচ’র পরিবারকে দেশ স্বাধীনের ৪৫ বছরে সম্মানী ভাতা প্রদান করা দুরের কথা এখনো এই দুই বীর শহীদের নাম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গেজেটভুক্ত হয়নি।

 
স্বামীর নাম শহীদ মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় গেজেটভুক্ত করার জন্য শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মীর আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী রাউফা খাতুন তার স্বামীর সহযোদ্ধা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট সরকারী বেসরকারী অফিসে ধর্ণা দিয়েছেন। কোন কাজ না হওয়ার একপর্যায়ে ১৯৮৯ সালে তিনিও মারা যান।
 
উল্লেখ্য, মিরপুর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড গ্রাম মিরপুরের মৃত মীর ঈমান আলীর ছেলে মীর আব্দুর রাজ্জাক ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন উপজেলার পোড়াদহ বাজারে প্রতিরোধ যুদ্ধে পাক বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন। নিহত হবার পর শহীদ আব্দুর রাজ্জাকের মৃতদেহ পাওয়া যায়নি। মৃত্যুকালে তিনি ৩ পুত্র ও ২ কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।
 
অন্যদিকে উপজেলার ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের বীজনগর গ্রামে ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল পাক হানাদার বাহিনী আক্রমণ করে মীর আব্দুর রইচ ওরফে চেনি মীর সহ ১৫/২০ জনকে ধরে নিয়ে যায়। সেই থেকে মীর আব্দুর রইচ’র সন্ধান পাওয়া যায়নি।
 
মীর রইচের স্ত্রী খোদেজা খাতুন তখন থেকে ৬ সন্তানকে নিয়ে স্বামী ফিরে আসার অপেক্ষায় থেকেছেন। স্বামী ফিরে আসেননি, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও মেলেনি। স্বামীর নাম শহীদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ছুটতে ছুটতে ৪ বছর আগে খোদেজা খাতুন ৮৫ বছর বয়সে শহীদ স্বামীর স্বীকৃতি না দেখে যাবার কষ্ট নিয়ে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে।
 

ইত্তেফাক/এএন