নিষেধাজ্ঞা সত্বেও গৌরনদীতে গাইড বইয়ের ছড়াছড়ি

সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বরিশালের গৌরনদীতে গাইড বইয়ের ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা গেছে। এমনকি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উপজেলার প্রাথমিক স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রকাশনার গাইড বই কেনার জন্য প্রধান শিক্ষকরা নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

 
জানা গেছে, গাইড বইয়ের প্রতি সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উপজেলার ১২৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ প্রধান শিক্ষক মোটা অংকের টাকা কমিশনের বিনিময়ে শিশুদের জুপিটার, গ্যালাক্সি ও দিগন্ত নামের গাইড বই ক্রয়ের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন বইয়ের লাইব্রেরিগুলোতে দেখা যাচ্ছে গাইড বইয়ের ছড়াছড়ি। প্রতিদিন প্রাইমারি স্কুলগুলোতে গাইড বইয়ের প্রচার নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বিভিন্ন প্রকাশনার বিক্রয় প্রতিনিধিরা। রহস্যজনক কারণে বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে স্থানীয় প্রশাসন।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার নাম করে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের জুপিটার গাইড বই ক্রয় করতে বলেছেন। ফলে তারা কর্মকর্তার নির্দেশে পালন করছেন মাত্র। কসবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা বেগম, গেরাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইস্তিয়াক আহমেদ, গৌরনদী আল-হেলাল একাডেমী ও মাহিলাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উল্লে­খিত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
 
গেরাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষানুরাগী সদস্য লুত্ফর রহমান সরদার বলেন, শিশুরা কোন গাইড ক্রয় করবে আর কোন গাইড পড়বে সে বিষয়টি নিয়ে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইস্তিয়াক আহমেদের সাথে আমার তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়েছে।
 
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদিরা খানম বলেন, কোনো শিক্ষকের পরামর্শে অভিভাবকরা গোপনে নোটবই কিনতে পারেন। এ ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই।

ইত্তেফাক/এএন