গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেরার নিখোঁজ চার নেতার মধ্যে ১০দিন পর খোঁজ মিলেছে উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ সহ-সভাপতি ও দামোদরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মনোয়ারুল হাসান জিম মন্ডল এবং দামোদরপুর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সাদেকের।
জিম মন্ডলে স্ত্রী লাভলী বেগম ও তার ভাতিজা পলাশ মন্ডল জানান, বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে তাদের দুইজনকে মোটরসাইকেলসহ নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের অদূরে ফাঁকা জায়গায় একটি মাইক্রোবাস থেকে তাদের নামিয়ে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে সেখান থেকে তাদের সেই মোটরসাইকেলযোগে বাড়ির পথে রওনা হন।
বৃহস্পতিবার ভোর রাত তিনটার দিকে বাড়ির কাছাকাছি উপজেলার জামালপুর এলাকায় পৌঁছেন বলে জিম মন্ডল মুঠো ফোনে স্বজনদের জানান।
এদিকে, তাদের সন্ধানে অন্য দুই নিখোঁজ আওয়ামী লীগ ও যুবদল নেতার স্বজনরা আশা করছেন তাদেরও খোঁজ শিগগিরিই মিলবে।
অপরদিকে নিখোঁজ নলডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাইদুল ইসলাম প্রিন্সের বড় ভাই নলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম নয়ন ও নলডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শফিউল ইসলাম শাপলার স্ত্রী সাথী বেগম জানান, আমরা আশা করছি শিগগিরিই প্রিন্স ও শাপলারও খোঁজ মিলবে।।
চার নেতা নিখোঁজ হওয়ার পর সাদুল্লাপুর থানায় অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি করেন নিখোঁজদের পরিবারের লোকজন। এছাড়া তাদের সন্ধান দাবিতে গত ৯ দিন ধরে উপজেলা শহর ও নলডাঙ্গায় মিছিল, মিটিং হরতাল-অবরোধ, মানববন্ধন, থানা ঘেরাও কর্মসূচি ও সংবাদ সম্মেলন করে বিক্ষু এলাকাবাসী ও স্বজনরা। কিন্তু পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও তাদের সন্ধান দিতে পারেনি।
তবে খোঁজ মেলায় ওই দুই পরিবার থেকে স্থানীয় সরকার দলীয় এমপি, পুলিশসহ আইনশৃংখলা বাহিনী, এলাকাবাসী, দলীয় লোকজন ও মিডিয়ার লোকজনের প্রতি কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, এমপি লিটন হত্যার পর জেলায় অতিরিক্ত পুলিশসহ একাধিক আইনশৃংখলা বাহিনী তদন্ত কাজে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় গত সোমবার (গত ৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দামোদরপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মনোয়ারুল হাসান জিম মণ্ডল ও দামোদরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সাদেক লালবাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে নলডাঙ্গা রওনা হন। এরপর থেকে তারা মোটরসাইকেলসহ নিখোঁজ।
পরদিন মঙ্গলবার (গত ১০ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে নলডাঙ্গা কাচারিবাজার এলাকা থেকে ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শফিউল ইসলাম শাপলাকে ও বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নলডাঙ্গা রেলগেট এলাকা থেকে নলডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাইদুল ইসলাম প্রিন্সকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে মোটরসাইকেলসহ তাদেরকে তুলে নিয়ে যায়। তদের সন্ধান না মেললেও এরমধ্যে আবারো বুধবার ও বৃহস্পতিবার ( ১১ ও ১২ জানুয়ারী) জেলায় আরো দুইজন নিখোঁজ হন।
এরা হলেন- সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রতাপ গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম রতন ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম।
ইত্তেফাক/এএসএসইউ