মাদারীপুরে ঘুষ গ্রহণকালে ২ কর্মকর্তা গ্রেফতার

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সদস্যরা ঘুষ গ্রহণকালে মাদারীপুর জেলার ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক (শরীয়তপুর জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও একজন অফিস সহকারীকে শরীয়তপুর থেকে গ্রেফতার করেছে।
 
বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে শরীয়তপুর জেলা সদরের পালং বাজারের সুরুচি হোটেল থেকে উপ-সহকারী পরিচালক মজুমদার মো. মাহফুজুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।
 
ঘুষ গ্রহণে সহযোগিতা করার অভিযোগে ভোলা জেলার ফায়ার সার্ভিস অফিসের অফিস সহকারী সাজ্জাদুল ইসলামকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। শরীয়তপুর জেলা সদরের পালং বাজারের সুরুচি হোটেলে আজ দুপুরে স্থানীয় তুলি ফার্নিচার এন্ড স্টিলের মালিক আ. হাকিম মাতবরের নিকট থেকে ২৫ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শরীয়তপুরের এ হোটেলের ভিতরে ও বাহিরে ওত পেতে থাকা দুদকের সদস্যরা টাকাসহ মজুমদার মোঃ মাহফুজুর রহমানকে গ্রেফতার করে।
 
ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি বিশেষ টিম তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করে। গত বছরের ২ ডিসেম্বর তুলি ফার্নিচার এন্ড স্টিলের দোকানসহ ছয়টি দোকান পুড়ে যায়। পরে হাকিম মাতবরসহ ও অন্য দুইজন ন্যাশনাল ব্যাংক লি. শরীয়তপুর শাখা হতে সিসি ঋণ গ্রহণ করেছেন। এই ঋণের বিপরীতে সিকদার ইন্স্যুরেন্স কো. লি. এ বীমা পলিসি করেছিলেন। তাদের বীমা দাবির জন্য সংশ্লিষ্ট ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদন প্রয়োজন ছিল। তারা ফায়ার সার্ভিস অফিসে গেলে উপ-সহকারী পরিচালক মজুমদার মো. মাহফুজুর রহমান তাদের কাছে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতিপূরণ বাবদ যত টাকার ফায়ার রিপোর্ট দেয়া হবে তত টাকার শতকরা তিন ভাগ হারে মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা দাবি করে।
 
পরে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অনুরোধে তিনি এক লাখ টাকা ঘুষ নিতে সম্মত হন। বৃহস্পতিবার ঘুষের প্রথম কিস্তি বাবদ ২৫ হাজার টাকা দেয়ার দিন ধার্য ছিল। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকে অবহিত করা হয়। সেখান থেকে তাকে হাতে নাতে গ্রেফতার করা হয়। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ফরিদপুরের সহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে পালং থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। -বাসস।
 
ইত্তেফাক/এসএস