ভোলা জেলার মুল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলা ভূমি রূপালী দ্বীপ মনপুরা। মেঘনার কোলে লালিত চতুর্দিকে মেঘনা নদীবেষ্টিত সবুজ শ্যামল ঘেরা। সু বিশাল নদী-নালা, চতুর্দিকে বেড়ীবাঁধ, বিভিন্ন ধরনের ধানের ক্ষেত, বিশাল ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের বাগান ও মূল ভূখণ্ডে রয়েছে শত শত হরিণের বিচরণ।
ভোলা জেলা সদর থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্ব দিকে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে মেঘনার মোহনায় ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মনপুরা উপজেলা প্রায় লক্ষাধিক লোকের বসবাস। মিয়া জমিরশাহ'র স্মৃতি বিজড়িত মনপুরা দ্বীপ অতি প্রাচীন। একসময় এ দ্বীপে পুর্তগীজদের আস্তানা ছিল। তারই নিদর্শন হিসেবে দেখতে পাওয়া যায় কেশওয়ালা কুকুর। মনপুরার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির সারিসারি বাগান।
IMG0
মনপুরায় সূর্য উদয় এবং সূর্যাস্তও উপভোগ করা যায়। এখানে ছোট বড় ১০-১৫ টি চর ও বন বিভাগের প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে সবুজ বিপ্লব। মাইলের পর মাইল সবুজ বৃক্ষরাজির বিশাল ক্যাম্পাস মনপুরাকে সাজিয়েছে সবুজের সমারোহে। শীত মৌসুমে শতশত পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে এসব চরাঞ্চল। এই চরগুলো হলো চর নজরুল, চর পাতালিয়া, চর পিয়াল, চরনিজাম, চর সামসুউদ্দিন, লালচর, ডাল চর, বদনার চর, কলাতলীর চর ইত্যাদি। মনপুরা সদর থেকে দুই কিলোমিটার উত্তর পূর্ব পাশে গড়ে উঠেছে মনপুরা ফিশারিজ লি.। খামার বাড়িতে সারি সারি নারিকেল গাছ ও বিশাল-৪-৫টি পুকুর রয়েছে। দৃষ্টিনন্দন খামার বাড়িটি হতে পারে পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ। খামার বাড়িটির পূর্ব পাশেই বিশাল ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বাগান। এখানে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই দেখা যায়না এখানে খাবারের রীতিমত আইটেম ছাড়াও বিশেষ বিশেষ কিছু খাবার লক্ষ করা যায়। শীতের হাঁস, মহিষের কাচা দধি, টাটকা ইলিশ,বড় কই, জাগুর, কোরাল, বোয়াল ও গলদা চিংড়ি। মেঘনা নদী থেকে ধরে আনা টাটকা ইলিশ ও চর থেকে আনা মহিষের কাঁচা দুধের স্বাদই আলাদা।
IMG1
মনপুরার মূল ভুখণ্ডে কোরেজডেম ম্যানগ্রোব বনে দেখতে পাওয়া যায় হরিণের পাল। প্রতিদিন বিকাল বেলা এসব হরিণ দেখতে পর্যটকরা ভীড় করেন। মূল ভূখণ্ডে চরফৈজুদ্দিন টু সাকুচিয়া মধ্যবর্তী রয়েছে সংযোগ বিশাল ব্রিজ। প্রতিদিন বিকাল বেলা ভ্রমণ পিপাষু মানুষেরা সুন্দরতম ব্রিজ দেখার জন্য ভিড় করেন। এখানে না গেলে বুঝাই যাবেনা কি সৌন্দর্য লুকায়িত আছে এই দ্বীপে।
এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে রুটিন মাফিক। প্রতিদিন ঢাকা থেকে ১টি লঞ্চ বিকাল সাড়ে ৫টার সময় মনপুরা ও হাতিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে পরদিন মনপুরা সকাল ৬টা পৌঁছে। অন্য একটি লঞ্চ ঢাকা থেকে ১ দিন পর পর ছাড়ে। মনপুরার রামনেওয়াজ লঞ্চ ঘাট থেকে প্রতিদিন দুপর ২টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি লঞ্চ ছাড়ে। এছাড়া বিভিন্নভাবে স্থল ও নৌ পথ দিয়ে যাতায়াত করা যাবে।
রুপালী সৌন্দর্যের দ্বীপ মনপুরার কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রশাসনের সাথে আলাপ হয় মনপুরার পর্যটন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ কে এম শাহজাহান মিয়া জানান, এখানকার পর্যটনের অপার সম্ভাবনা নিয়ে পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্যাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি কাজ করে যাচ্ছেন। বঙ্গ বন্ধুর চিন্তা নিবাস করার জন্য তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন। উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসলে এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব।
মনপুরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি মিসেস শেলিনা আকতার চৌধুরী বলেন, 'একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার একটি স্বপ্ন মনপুরাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। মনপুরা বঙ্গবন্ধুর চিন্তানিবাস স্থাপনের জন্য চরপ্যাশন ও মনপুরার উন্নয়নের রোল মডেল পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্যাহ আল ইসলাম জ্যাকব এম পি কাজ করছেন। বঙ্গবন্ধুর চিন্তানিবাস স্থাপন হলেই পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সহজ হবে।'
ইত্তেফাক/এসএস