আইবিএসিসির ‘ব্র্যান্ডউইটজ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ‘দি ক্যাম্পিয়ন্স’

ঢাকা বিশ্বদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কমিউনিকেশন ক্লাব (আইবিএসিসি) আয়োজিত দেশের সর্ববৃহৎ ব্যবসায় প্রতিযোগিতা ‘ব্র্যান্ডউইটজ- ২০১৬’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আইবিএ-এর তাউসিফ আহমেদ, তৌফিকুল ইসলাম মান্নান সৌরভ, নাবিদা হাসান এবং তাসমিয়া তাবাসসুমের সমন্বয়ে গঠিত দল ‘দি ক্যাম্পিয়ন্স’।
 
প্রথম রানার্স আপ হয়েছে আইবিএ-এর আহমেদ তাশফিক রাফসান, আয়মান রাহমান, আবরেশমি আবিদা হক ও সামি তাহসিনের দল ‘চ্যালেঞ্জ এক্সেপ্টেড’ এবং দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছে আইবিএ-এর তাউসিফ আমিন খান, মাসতুরা তাসনিম, তানজির ইসলাম এবং রাকিব ইবনে হোসাইনের সমন্বয়ে গঠিত দল ‘টিম পটার’।
IMG0
গত ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে একটি গ্র্যান্ড ফিনলে অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং ঢাকা বিশ্বদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল মজিদ। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন বিজিএমইএ-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জায়ান্ট অ্যাপারেল্স লিমিটেডের এমডি ফারুক হাসান, বেইস টেক্সটাইল লিমিটেডের এমডি এবং সিইও হাসান শিবলী এবং বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা শরিফুল ইসলাম।
 
চূড়ান্ত প্রতিযোগিতাটি ছিল আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী তৈরি পোশাক খাতের ব্র্যান্ডিং-এর ওপর। ‘ব্র্যান্ডউইটজ-২০১৬’ প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন দল পেয়েছে ২৫০,০০০ টাকা, প্রথম ও দ্বিতীয় রানার্স-আপ দল পেয়েছে যথাক্রমে ১৫০,০০০ টাকা এবং ১০০,০০০ টাকা। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় আইবিএ-এর তিনটি দল ছাড়াও ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরও তিনটি দল অংশগ্রহণ করে।
 
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘ব্র্যান্ডউটজ একটি চমৎকার আয়োজন করেছে। এর ফলে, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের তৈরি পোশাক খাতের সমস্যাগুলো উঠে এসেছে। আগামীর বিশ্বের জন্য তৈরি পোশাক খাতের কিছু উদ্ভাবনী পদক্ষেপ দরকার। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের কেবল ব্যবসায় জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করছে না বরং তৈরি পোশাক খাতের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেছে।’
 
নোমান গ্রুপের ডিরেক্টর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জাবের বলেন, ‘আইবিএ-এর মতো সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রসিদ্ধ ব্যবসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এবং দেশের তৈরি পোশাক খাত একত্রে বাংলাদেশকে একটি বেকারত্বহীন দেশে পরিণত করতে সক্ষম হবে। ব্র্যান্ডউইটজ-এর মতো এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের এই খাতের প্রতি আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করবে।’
 
ঢাকা বিশ্বদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল মজিদ বলেন, ‘আজকের তরুণ পেশাজীবীরা বৃহৎ এই তৈরি পোশাক খাতের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে না। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা এমন কিছু বিষয়কে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি যা এই শিল্পকে বিকাশিত করতে সাহায্য করবে এবং ভবিষ্যতে তরুণদের এই খাতের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।’
 
এই ব্র্যান্ডউইটজ প্রতিযোগিতাটি অষ্টমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের ব্যবসায় বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ একটি প্রতিযোগিতা হিসেবে পরিচিত। এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা তাদের উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক পরিকল্পনাসমূহ তুলে ধরতে পারেন।
 
২০১৬ সালের ১৪ ও ১৫ নভেম্বরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনার ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে একটি রোড শো-এর মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতাটি শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে জ্ঞান আদান প্রদান প্ল্যাটফর্মে অংশ নেয়ার প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা শুরু হয় ছাত্রছাত্রীদের অনলাইনের ব্যবসা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের মধ্য দিয়ে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ২৭৯টি দল থেকে ৪২টি দল নির্বাচিত হয়। ব্র্যান্ডউইটজ-এর দ্বিতীয় রাউন্ডে ছিল একটি সমস্যা সমাধান ও উপস্থাপনা পর্ব, যেখানে ২৪টি দল বাদ পড়ে যায়। তৃতীয় রাউন্ডে ১৮টি দলকে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং ডিজাইন অথবা স্ট্র্যাটেজি প্ল্যান করতে বলা হয়, যাতে নতুন বাজার চাহিদা তৈরি করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে আরো একটি যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার পর ছয়টি দলকে চুড়ান্তভাবে ব্র্যান্ডউইটজ ২০১৬-এর গ্র্যান্ড ফিনলে-এর জন্য নির্বাচন করা হয়।
 
ইত্তেফাক/ইউবি