ডিজিটাল মার্কেটিং থেকে শুরু করে গুগল অ্যাপস স্টোরে কোন পেইড সার্ভিস উপভোগ করতে চাইলে তা ডলারে কিনতে হয়। আমাদের দেশের কয়জন মানুষের ডলারে লেনদেনের সুযোগ রয়েছে? যদি আমাদের দেশের অ্যাপস ডেভেলপারসরা এপিআই এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করে ডলারে অ্যাপস কেনার সুযোগকে টাকায় রুপান্তর করে দিতে পারে তাহলে আমাদের দেশেও অ্যাপস স্টোরের একটি ভালো বাজার হবে। এতে সমৃদ্ধ হবে আমাদের অর্থনীতি।
শুক্রবার বেসিস সফটএক্সপোর তৃতীয় দিনে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের মিডিয়া বাজার হলে ‘ডিজিটাল সার্ভিস ডেলিভারি: প্রসপেক্টস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।
সিস্টেম সল্যিউশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজিসের প্রধান কার্যনির্বাহী মাহবুবুল মতিনের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভিইউ মোবাইলের প্রধান কার্যনির্বাহী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক কায়মুন আমিন।
বৈঠকে আলোচকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ এমপি এবং বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার।
কায়মুন আমিন বলেন, পৃথিবীতে এখন ডিজিটাল সার্ভিসকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। ডিজিটাল সার্ভিস এখন অর্থনীতির অংশ নয় নিজেই অর্থনীতি। অর্থনীতিতে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ডিজিটাল সার্ভিসে কন্ট্রিবিউশন আছে যুক্তরাজ্যের, যার পরিমাণ ১২.৪ শতাংশ। জি-২০ দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন স্থানে আছে ভারত। যার পরিমাণ ১.৫ শতাংশ। ডিজিটাল সার্ভিসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি মিডিয়াতে পরিলক্ষিত হয়। ৭২ শতাংশ ডিজিটাল সার্ভিসের সঙ্গে সংযুক্ত হয় মিডিয়া।
তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল সার্ভিস সব সার্ভিসের সঙ্গেই যুক্ত রয়েছে। আমরা যদি উবারের কথা বলি, ট্রান্সপোর্টের ক্ষেত্রে এই ডিজিটাল সেবা ভূমিকা রাখছে। ডিজিটাল সার্ভিস বৃদ্ধি পাওয়াতে স্মার্টফোন, ট্যাব থেকে শুরু করে ল্যাপটপ, কম্পিউটারের বিক্রিও বেড়েছে। বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ মানুষ মোবাইলে ডিজিটাল সার্ভিস ব্যবহার করে থাকে। ডিজিটাল সার্ভিসে ভিডিওতে উপার্জন করার জন্য কনটেন্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে চ্যালেঞ্জ খুব দ্রুত নিতে হয় এবং বাস্তবায়নের সময় কম থাকে। শুধু অ্যাপস বানালেই হবে না, অ্যাপসের গ্রাহক সম্পর্কেও নিশ্চিত হতে হবে।
বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, ৮৭ সালে আমি তথ্যপ্রযুক্তিতে যাত্রা শুরু করি, তখনো আমি জানতাম না কম্পিউটার কত প্রকার ও কি কি? পত্রিকা বের করার প্রয়োজনে আমি আমার সহধর্মীনিকে কম্পিউটার শেখালাম। শেখাতে গিয়ে আমি নিজেও শিখে নিয়েছিলাম। আমি একজন মানুষ দেখেছি যিনি ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন বহু আগেই। তিনি আর কেউ নন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লাখ টাকায় কেনা ফোন আমরা এখন পাই হাজার টাকায়। মোবাইল ইন্টারনেট চলে এসেছে গ্রামের কৃষকের কাছেও। সারা পৃথিবীতে ইউটিউব যত মানুষ দেখে, পৃথিবীর সব চ্যানেলের দর্শনার্থীর চেয়ে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হবে। আইটি সেবা দিয়ে শুধু বিদেশে নয় স্বয়ং দেশের গার্মেন্টস শিল্পকেও গার্মেন্টস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার দিয়ে আমরা অর্থনীতির শীর্ষে নিয়ে যেতে পারি। আমাদের এপিআই এর জন্য ন্যাশনাল এক্সচেঞ্জ দরকার। তাহলে আমরা সহজেই অ্যাপস ডেভেলপারদের সহজেই সংযুক্ত করতে পারবো। সরকার ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম ৫২৫ টাকা করে দিলেও মোবাইল অপারেটরদের কোন অফার ব্যান্ডউইথ সম্পর্কিত থাকে না। যা গ্রাহকদের জন্য দুঃখজনক। আমরা মোবাইল অপারেটরদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি হওয়া পছন্দ করবো না।
ইমরান আহমেদ এমপি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের যে স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী দেখেছিলেন তা এখন বাস্তবায়নের পথে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন আমরা এখন দিবালোকের মতো দেখতে পারি।
মাহবুবুল মতিন বলেন, গার্মেন্টসের বাজার ৪০০ বিলিয়ন ডলারের যেখানে বাংলাদেশে মাত্র ২৬ বিলিয়ন ডলারের বাজার। এই বাজার একসময় ৫০ বিলিয়ন ডলার হবে। কিন্তু সারা পৃথিবীতে ৩ হাজার ৫০০ বিলিয়ন ডলারের আইটি বাজার। এই বাজারে সহজেই ৫ বিলিয়ন ডলার উপার্জন করা সম্ভব। আমরা অতিসত্বর আমাদের লক্ষে পৌঁছে যাবো।
ইত্তেফাক/ইউবি