দেশে ই-কর্মাস ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এখাতে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ই-কর্মাসে কেনাকাটায় এখনো ক্রেতারা ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য কিনতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ই-কর্মাসকে জনপ্রিয় করতে হলে অনলাইন পেমেন্ট বাড়াতে হবে।
বেসিস সফটএক্সপোর তৃতীয় দিন শুক্রবার বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের গ্রিনভিউ হলে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারের বিষয় ছিল বিজনেস গ্রোথ অ্যান্ড এনহ্যানসিং কনজ্যুমার এক্সপেরিয়েন্স থ্রু অনলাইন পেমেন্ট।
বেসিস পরিচালক ও বেসিস সফটএক্সপো ২০১৭ এর আহ্বায়ক সৈয়দ আলমাস কবীরের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসএসএল ওয়্যারলেসের হেড অব ই-কর্মাস নাওয়াত আশেকিন। আলোচক হিসেবে ছিলেন মাস্টারকার্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মাদ কামাল, ইস্টার্ন ব্যাংকের হেড অব কনজ্যুমার ব্যাংকিং নাজিম এ চৌধুরী, বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম মাশরুর, চালডালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আশরাফ এবং প্রিয়শপ ডটকমের প্রধান নির্বাহী আশিকুল আলম খান।
নাওয়াত আশেকিন তার প্রেজেন্টেশনে বলেন, বাংলাদেশে ই-কর্মাস এখনও ইন্ট্রোডাকশন স্টেজে আছে। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী যেভাবে বাড়ছে তাতে করে ই-কর্মাসের বাজার সুবিশাল। এই বাজার ধরতে হলে পেমেন্ট গেটওয়ে সহজ করতে হবে। এছাড়াও লজিস্টিক সাপোর্ট দিতে হবে। ই-কর্মাসে যত লেনদেন হচ্ছে তার মধ্যে অনলাইন পেমেন্টের পরিমাণ খুবই কম।
সৈয়দ মোহাম্মাদ কামাল বলেন, দেশে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা হাতে গোনা। ক্রেডিট কার্ড সংখ্যা বাড়লে অনলাইনে লেনদেন বাড়বে। যদিও দেশে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক লেনদেনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সীমা বেধে দেয়া আছে। এই সীমা মাত্র ১ হাজার ডলার।
ফাহিম মাশরুর বলেন, দেশে ই-কর্মাসে যে লেনদেন হয় তার বেশিরভাগই ক্যাশ অন ডেলিভারিতে হয়। এর কারণ ক্রেতারা পণ্য হাতে পাওয়ার আগে পেমেন্ট করতে ইচ্ছুক নয়। এই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে ক্রেতাদের অনলাইনে কেনাকাটায় সাবসিডি দিতে হবে। এজন্য ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। এখানে ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
আশিকুল আলম খান বলেন, আমাদের দেশের মানুষ অনলাইনে কেনাকাটায় এখনো কমফোর্ট ফিল করেন না। তাছাড়াও অনেকেই জানেন না যে এটিএম কার্ড দিয়েও অনলাইনে কেনাকাটা করা যায়। তাছাড়া অনলাইনে কার্ডের পিন নম্বর দিতেও তারা রিস্ক মনে করেন। এজন্য ক্রেতাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে।
নাজিম এ চৌধুরী বলেন, নগদ টাকায় লেনদেন করতে করতে অনেকেই স্বাচ্ছন্দ পান। অনেক সময় বিক্রেতারাও চান ক্রেতারা তাদের পণ্যের দাম নগদে পরিশোধ করুক। অনলাইনে কেনাকাটায় অনলাইন পেমেন্ট বাড়াতে সরকারেরও ভূমিকা আছে। এক্ষেত্রে জনগণকে সচেতন করতে সরকার পদক্ষেপ নিতে পারে।
ইত্তেফাক/ইউবি