অনলাইন আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য একটি কমন পেমেন্ট সিস্টেম তৈরি হচ্ছে। চলতি বছরের মধ্যেই এই সিস্টেমটি চালু করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে আলোচনা চলছে।
শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) চলমান বেসিস সফটএক্সপোতে ‘পেমেন্ট ইকোসিস্টেমে তথ্যের সুরক্ষা’ শীর্ষক একটি সেমিনারে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের আইটি ম্যানেজার আরেফ এলাহী মানিক এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা পেমেন্ট সিস্টেমের একটি কমন প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে। এজন্য নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। দেশে বিদ্যমান মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতিমালা ভিন্ন। তাই তাদের একটি প্লাটফর্মে আনতে কাজ চলছে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিটিও ফোরাম বাংলাদেশের সভাপতি তপন কান্তি সরকার। তিনি তার প্রবন্ধে দেশের সার্বিক আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নিরাপত্তা নিয়ে সিটিও ফোরামের গবেষণার তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেন।
সেমিনারের বিশেষ অতিথি কিপটর সুইডেনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী মাইকেল স্যালেন রডিন জানান, তাদের দেশেও ডাটা সিকিউরিটি একটা বড় কনসার্ন। সেখানেও সেবার ধরণ মোবাইল-ব্যাংক কেন্দ্রিক। সেখানেও জালিয়াতি হয় বলেও বলেন তিনি।
সেমিনারে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার বলেন, সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়নের যে টার্গেট নিয়েছে সেগুলো পূরণ করতে হলে অবশ্যই তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রাম এসব বাস্তবায়নে কাজ করছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি এখন যে অবস্থানে পৌঁছেছে তাতে একটি কমন পেমেন্ট গেটওয়ে সকলের দাবি, যেন যেকোনো জায়গা থেকে পেমেন্ট সুবিধা পাওয়া যায়।
কবির বিন আনোয়ার তিনটি বিষয়ের দিকে নজর দেওয়ার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, দেশে পেমেন্ট সিস্টেমে নিরাপত্তার জন্য সবার আগে একটা কমন গেটওয়ে তৈরি করা দরকার। যার জন্য কাজ করা হচ্ছে। এছাড়াও ডাটা সিকিউরিটি জোরদারে জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এই নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার দেবদুলাল রায় বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক অটোমেশন সিস্টেম চালু করে ২০০৯ সাল থেকে। কিন্তু সেটা নিয়েও যে সমস্যা নাই তা নয়। সেটা নিয়ে এখন আরও কাজ করা হচ্ছে। দেশের পেমেন্ট সিস্টেমে যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয় তাহলে অবশ্যই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এটা নিয়ে কোর্স চালু করা প্রয়োজন।
তবে জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে যদি পেমেন্ট সিস্টেম চালু করা হয় তাহলে তাকে নিয়ন্ত্রণ করবে এটা একটা বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে বলে জানান তিনি। তাই এটাও ভেবে দেখা দরকার বলে মত দেন তিনি।
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের পরিচালক তৌহিদ ভূঁইয়া, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আদিল খান, আমেরিকান নাগরিক মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. এম পান্না, সিটিও ফোরামোর সেক্রেটারি জেনারেল ড. এজাজুল হক।
ইত্তেফাক/এএম