লালমোহনে মেঘনার তীব্র ভাঙন ঝুঁকিতে তিন কি.মি. বেড়িবাঁধ

লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ও লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নে চলতি শুষ্ক মৌসমেও মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙন চলছে। ভাঙনের তীব্রতায় গত ৬ মাসে বিলীন হয়েছে নদীর তীরবর্তী এলাকার বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই এই দুটি ইউনিয়নের আরো বাড়ি-ঘর ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছে এলাকাবাসী।

লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আবুল কাশেম জানান, ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের কোপখালী থেকে শুরু করে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের গাইট্টা, চাঁদপুর ও ফাতেমাবাদ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই মৌসুমেও মেঘনা নদীর ভাঙন চলছে। গত ছয় মাসে এসব এলাকার কোনো কোনো স্থানে পাঁচ থেকে ছয়শ ফুট জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। যার কারণে ছোট হয়ে যাচ্ছে এই দুটি ইউনিয়নের আয়তন। তিনি আরো জানান, সম্প্রতি প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত গাইট্টা মাটির কিল্লা ও কিল্লায় উঠার চৌকি মেঘনায় ভেঙে নিয়ে গেছে। এছাড়া হুমকীর মধ্যে রয়েছে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর-পূর্ব ফাতেমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই অবস্থায় মেঘনার ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন চেয়ারম্যান আবুল কাশেমসহ এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ডিভিশন-২) নির্বাহী প্রকৌশলী কাইছার আলম বলেন, এই দুটি ইউনিয়নের ভাঙন রোধে ‘লর্ডহার্ডিঞ্জ ও ধলীগৌরনগর বাজার রক্ষা প্রকল্প’ নামের একটি প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। ৫৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলেই কাজ শুরু হবে। তবে চলতি শুষ্ক মৌসুমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারবে কীনা তা পরিষ্কার করে কিছু বলতে পানেনি তিনি।

এদিকে, ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের কোপখালী থেকে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের গাইট্টা পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকার বেড়িবাঁধ অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন এই বেড়িবাঁধ নির্মাণ হয়েছিল বলে জানিয়েছে ভোলা পাউবো-২। এই বেড়িবাঁধ মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ঠেকানোর জন্য গত বছর প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের পাইলিং করা হলেও তার ৪০ ভাগই ধসে গেছে। শুষ্ক মৌসমে ভাঙন রোধ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না করতে জরাজীর্ণ এই বেড়িবাঁধ নিয়েও উত্কণ্ঠায় নদী পাড়ের মানুষ।