‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ — শ্লোগানে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সুরক্ষা বিষয়ক সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক উত্সব অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (সেড), পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), খ্রিস্টিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি) ও গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের (জিবিকে) আয়োজনে গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার এই সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক উত্সব অনুষ্ঠিত হয়। দুই শিফটে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পর্বে সাজানো এসব অনুষ্ঠানমালায় আটটি সমান্তরাল অধিবেশন ও দুইটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে আয়োজিত দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত সম্মেলনে চা জনগোষ্ঠী, আদিবাসী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তথা বেদে, ঋষি, হরিজন, যৌনকর্মী এবং আরো কিছু জাতিসত্তা যেমন— মুন্ডা, শব্দকর, পাত্র ইত্যাদিসহ অদিবাসী খাসি, মণিপুরী, সাঁওতাল, তেলেগু, ওঁরাও, ত্রিপুরা এবং উড়িয়া জনগোষ্ঠীর পরিচয়, ভাষা, সংস্কৃতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রজনন অধিকার, ভূমির অধিকারসহ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে চা বাগানের মালিক ও শ্রমিক পক্ষের সংলাপ ও ঐক্য সক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়ে আটটি সমান্তরাল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও সম্মেলন শেষে প্রতিদিন সন্ধ্যায় শহরের মহসিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘আমাদের পরিচয়, আমাদের সংস্কৃতি’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়।
দুইদিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম, পিপিআরসি-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, সেড এর পরিচালক ফিলিপ গাইন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক আহমেদ কামাল, আচিক মিচিক সোসাইটির সভাপতি সুলেখা ম্রং, বাংলাদেশ টি এসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আউয়াল, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সমপাদক রামভজন কৈরী, লেখক, সিসিডিবি’র সহযোগী পরিচালক ডেভিট হিলটন, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)’র প্রধান ডা. সত্যনারায়ণ ডেরাসওয়াম প্রমুখ। এছাড়াও চা জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্রজাতিসত্তা ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।