জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
কক্সবাজারের টেকনাফে বাসা ভাড়ার রেট বাড়ছে বেপরোয়াভাবে। ফলে জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বাসা ভাড়ার মালিকরা স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় ভাড়াটিয়া পক্ষ কোনো ধরনের অভিযোগ এবং প্রতিবাদ করতে পারছেন না। তবে স্থানীয় সচেতন মহলসহ ভুক্তভোগী লোকজন এসব ভাড়া বাসা নিয়ন্ত্রণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, এখানে বাসা ভাড়া পরিচালনায় কোনো ধরনের নীতিমালা নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত ঘটনার পর এদেশে লাখ লাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এসব রোহিঙ্গা টেকনাফ-উখিয়ার বেশ কয়েকটি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। টেকনাফ-উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গাদের সেবা দিতে শতাধিক দেশি-বিদেশি এনজিও কাজ করছেন। এসব এনজিওতে হাজার হাজার কর্মী কাজ করছেন। তারা বিভিন্ন বাসা বাড়িতে ভাড়ার বিনিময়ে অবস্থান করে নিকটবর্তী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, মাদকবিরোধী অভিযানের পর মাদক সংশ্লিষ্টদের অনেকে নিজেদের বাসা বাড়ি ফেলে অন্যের বাসা বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে বলে জানান অনেকে। এই সুযোগে বাসা ভাড়া দিচ্ছেন এমন মালিকরা ইচ্ছেমত ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছেন। কয়েকজন ভাড়াটিয়ার সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাস না ফুরাতেই বাসা ভাড়ার মালিকরা দাম বৃদ্ধি করছেন। সঠিক নীতিমালা না থাকায় বাড়িওয়ালারা নিজেদের মতো করে ভাড়া বৃদ্ধি করে চলেছেন। এদের নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসনিক নজরদারি না থাকায় বিনা অজুহাতে বেপরোয়াভাবে তারা ভাড়া বাড়িয়ে নিচ্ছেন। বাসা ভাড়া বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে মালিক এবং ভাড়াটিয়ার মধ্যে বিভিন্ন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। ভাড়াটিয়া লোকজন জানায়, তারা বিভিন্ন এনজিওতে চাকরি করছেন। নিরুপায় হয়ে তারা টেকনাফ-উখিয়ার প্রত্যন্ত এলাকার বিভিন্ন বাসা বাড়িতে অবস্থান করছেন। ভাড়া বৃদ্ধির নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বাড়ি মালিকরা সুযোগ বুঝে এনজিও কর্মী এবং স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে ইচ্ছামত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। জালাল উদ্দিন, ইয়াছিন, ফায়সাল আহমেদ, মোর্শেদুল আলম, জাহাঙ্গীর আলমসহ বেশ কয়েকজন এনজিও-কর্মী ইত্তেফাককে জানান, বাসা ভাড়ার নামে টেকনাফ-উখিয়ায় চলছে এক ধরনের প্রকাশ্য ডাকাতি।
হ্নীলা ইউপির চেয়ারম্যান এইচ. কে. আনোয়ার জানান, আসলে বাসা ভাড়া পরিচালনায় সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ ভেবে তিনিও নীতিমালা প্রণয়নের কথা বলেছেন। এদিকে, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রবিউল হোসেন জানান, বাসা ভাড়ার জন্য পৌরসভা এবং ইউনিয়নভিত্তিক নীতিমালা রয়েছে। নীতিমালা অনুসরণ না করে ইচ্ছামত ভাড়া বাড়িয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে তিনি ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।