আলমডাঙ্গায় গরুর গাড়ি বিলুপ্তির পথে, চাকার কারিগররা অসহায়

এক সময়ের গ্রামীণ জনপদের মানুষের একমাত্র বাহন ছিল গরু বা ঘোড়ার গাড়ি। দিনে দিনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই গাড়ি-ঘোড়া আজ বিলুপ্তির পথে। এই বাহনের স্থলে জায়গা করে নিয়েছে স্থানীয়ভাবে তৈরি নানা নামের ইঞ্জিন চালিত বাহন। সেই সাথে বিলুপ্ত হতে চলেছে সেই গাড়ি নির্মানের কারিগররাও। তারা জীবন-জীবিকার তাগিদে বেছে নিয়েছেন অন্য পেশা।

৫২ বছর আগে রাজশাহীর চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে গরুর গাড়ি তৈরির কারিগর আব্দুল মালেক নামের এক টসবগে যুবক আলমডাঙ্গায় আসেন। তিনি প্রথমে শহরের আনন্দধাম সড়কের পাশে পড়ে থাকা জায়গায় একটি দোকান করেন। গাড়ি তৈরিতে প্রচণ্ড ভিড় পড়ে যায়। একে একে চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে আরো কারিগর এসে দোকান খুলে বসেন। এভাবে আনন্দধাম সড়কের পাশে মোট ২১টি গাড়ি তৈরির দোকান হয়ে যায়। হরদম তৈরি হতে থাকে গরু বা ঘোড়ার গাড়ির চাকা। এই চাকা গ্রাম থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।

গ্রামের কৃষকরা মাঠের ফসলাদি বাড়িতে আনা এবং তা শহরে বিক্রি করতে বাহন হিসেবে গরুর গাড়ি ব্যবহার করতে থাকে। বউ-ঝিরা ঘোড়ার গাড়িতে করেই স্বামীর বাড়ি থেকে বাপের বাড়ি আবার বাপের বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে আাস-যাওয়া করতে থাকেন।
কিন্ত কালক্রমে দেশের শহর থেকে গ্রাম বিদ্যূতায়িত হতে থাকে। গ্রামের পানি-কাদার রাস্তাগুলো ক্রমেই হয়ে ওঠে পিচঢালা সড়ক। সড়কগুলোতে নামতে থাকে স্থানীয়ভাবে তৈরি নসিমন, করিমন, ভটভটি, লাটাহাম্বার ও স্টিয়ারিং নামের ইঞ্জিনচালিত নানা নামের বাহন। এদের দাপটে আজ সড়কে আর দেখা যায় না গরুর বা ঘোড়ার গাড়ি।

আলমডাঙ্গা শহরে জায়গা করে নেওয়া ২১টি গাড়ি তৈরির দোকানীর বেশীরভাগ কারিগর পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। চলে গেছেন আলমডাঙ্গা ছেড়ে চাপাইনবাবগঞ্জ তাদের নিজেদের এলাকায়। ৫২ বছর আগে প্রথম আলমডাঙ্গায় আসা টসবগে যুবক আব্দুল মালেক এখন বৃদ্ধ। কেবল তিনিই এখনও রয়ে গেছেন আলমডাঙ্গায়। গাড়ির চাকা তৈরি করেন। তিন মেয়ে ও দুই ছেলেকে বিয়ে দিয়েছেন আব্দুল মালেক। ছোট ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স পড়ছে।

আরও পড়ুন: শ্বাশুড়িকে গালি দিতে নিষেধ করায় ভাসুরের দায়ের কোপে গৃহবধূ আহত

গরুর চাকা তৈরির কারিগর আব্দুল মালেক বলেন, ‘এক সময় গাড়ির চাকা তৈরির প্রচুর চাপ ছিল। এখন কোন চাহিদা নেই। তবুও থাকি। আলমডাঙ্গা ছাড়তে মন চাই না। দু-একটি চাকা তৈরির অর্ডার পাই। এতেই কোনরকম টিকে আছি।’

ইত্তেফাক/নূহু