স্টকহোমে যথাযথ মর্যাদা, গুরুত্ব ও ভাব-গাম্ভীর্যের সঙ্গে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে স্টকহোমে বাংলাদেশ দূতাবাসে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানসূচীতে ছিল পবিত্র কুরআন থেকে তিলওয়াত, পবিত্র গীতা থেকে পাঠ, সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, ভাষা শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এক মিনিট নীরবতা পালন, প্রতীকী শহীদ মিনারে পুষ্প-স্তবক অর্পণ, দিবসটি উপলক্ষে প্রদত্ত মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ, দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জনাব শেখ মোঃ শাহরিয়ার মোশাররফ-এর স্বাগত বক্তব্য, দিবসটির প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য-এর ওপর আলোচনা পর্ব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সবশেষে নৈশভোজ।
বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি ও সুইডিশ অতিথি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।
আলোচনা পর্বে বক্তাগণ মহান শহীদ দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ভাষার জন্য বাঙ্গালীদের জীবন বিসর্জনের অনন্য দৃষ্টান্ত, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কর্তৃক দিবসটির স্বাীকৃতি এবং বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলন ও সর্বোপরি স্বাধীনতা অর্জনে অমর একুশের সুদূরপ্রসারী প্রভাবের দিকসমূহের ওপর আলোকপাত করেন।
চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জনাব শেখ মোঃ শাহরিয়ার মোশাররফ তাঁর বক্তব্যে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বে বাঙ্গালীই একমাত্র জাতি যারা নিজ ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ যথার্থভাবে ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে কানাডাপ্রবাসী কিছু বাংলাদেশীর প্রাথমিক প্রচেষ্টায় ও সর্বোপরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ উদ্যোগে অমর একুশে কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বাীকৃতি দেয়।
ভাষা আন্দোলন কিভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙ্গালীর স্বাধিকার আন্দোলন ও সর্বোপরি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে সে বিষয়টি চার্জ দ্য এফেয়ার্স-এর বক্তব্যে উঠে আসে।
বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতি ক্রমেই বিশ্ব পরিমণ্ডলে অধিকতর সমাদৃত হয়ে ওঠার বিষয়টি তুলে ধরার প্রসঙ্গক্রমে তিনি অতি সম্প্রতি ইউনেস্কো কর্তৃক “মঙ্গল শোভাযাত্রা” -কে “Intangible Cultural Heritage of Humanity” হিসেবে স্বাীকৃতি প্রদানের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার ব্যাংক প্রতিষ্ঠার বিষয়টি উল্লেখপূর্বক চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স উপস্থিত প্রবাসীদেরকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে অধিক হারে এবং যথাযথ পদ্ধতিতে রেমিট্যান্স প্রেরণে উদ্বুদ্ধ করেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে প্রবাসী বাংলাদেশী শিল্পী ও কলা-কুশলীবৃন্দ গান ও কবিতা পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠান শেষে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স শিল্পী ও কলা-কুশলীবৃন্দকে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেন।
ইত্তেফাক/নূহু